
বীরভূম: কখনও পাটক্ষেতের ভিতর, কখনও খাটের তলা থেকে কাঁড়ি-কাঁড়ি টাকা উদ্ধার হতে দেখেছে বাংলা। আর এবার বাড়ির ভিতরে থাকা ট্রাঙ্ক থেকে উদ্ধার তাল-তাল সোনা ও কোটি-কোটি টাকা। ঘটনাটি বীরভূমের মহম্মদ-বাজারের। সেখানে পাথর ব্যবসায়ীর বাড়িতে থেকে উদ্ধার হয়েছে এই সব পাহাড় প্রমাণ সম্পত্তি। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত (দুপুর ১টা) ১০ কোটির বেশি সোনা ও ৫ কোটির বেশি নগদ মিলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে পোস্টও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে তল্লাশি শুরু হয়েছে কোটিপতি পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে। বুধবার সকাল গড়িয়ে গেলেও তল্লাশি অব্যাহত। ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে অন্তত পাঁচটি টাকা গোনার মেশিন। শুধু তাই নয়, পাঁচটি বড় আকারের ট্রাঙ্ক ও নিয়ে আসা হয়েছে প্রিন্টার। এখনও আধিকারিকরা টাকা গুণেই চলেছেন। সেই অঙ্কের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর,মিনার মণ্ডল নিজেও পাথর ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। মঙ্গলবার গভীর রাতে আচমকাই মিনার মণ্ডলের বাড়ি ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী। এরপরই শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। তখনই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়। মিনারের থেকে টাকা উৎস জানতে চাইছে পুলিশ।
মিনার কে?
মীনার মণ্ডল এক সময় সরকারি বাস চালক ছিলেন। ধীরে ধীরে টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ। তারপর থেকে বাস চালানোর কাজ তিনি ছেড়ে দেন। এরপরই পাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।
এ দিকে, ঘটনাস্থলে রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। শুধু বাহিনী একা নয়, পাশাপাশি উপস্থিত রয়েছেন পদস্থ আধিকারিকরা। তবে ঠিক কী কারণে এই অভিযান বা এর পেছনে অন্য কোনও বেআইনি কারবারের যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে, প্রশ্ন উঠছে এত পরিমাণ টাকা ও সোনা ব্যবসায়ীর বাড়িতে রয়েছে তা আগে কেন টের পেল না পুলিশ? রাজ্যে পালা বদলের পরই তল্লাশি? তবে বড় কোনও রাজনৈতিক নেতার হাত মাথায় ছিল বলেই কি কোনও পদক্ষেপ করেনি পুলিশ। থাকছে এই রকমই বিস্তর প্রশ্ন।
এই নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী এই নিয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন।