
রামপুরহাট: রবিবার সাতসকালে বাড়ির পার্টি অফিস থেকে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে। যেখানে লেখা রয়েছে, ‘যেভাবে অপমান করা হয়েছে মনে হচ্ছে রাজনীতিতে আসাই ভুল ছিল।’ কেন একথা লিখলেন আশিস? কারা তাঁকে অপমান করেছে? এই নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। এরই মধ্যে আশিসের মৃত্যু নিয়ে দলের এক ‘বখাটে’-কে নিশানা করলেন বীরভূমের ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল নেতা অনুব্রত ওরফে কেষ্ট মণ্ডল।
কী বললেন অনুব্রত?
রামপুরহাট বিধানসভার পাঁচবারের বিধায়ক ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের নির্বাচনে হেরে যান তিনি। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার। গত ২১ জুলাই বর্ধমানের শক্তিগড়ে হেনস্থা করা হয়েছিল তাঁকে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁকে নিয়ে উল্টোপাল্টা মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ। আশিসের এদিন ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর অনুব্রত বলেন, “আসলে অধ্যাপক তো। মনের দিক থেকে কষ্ট পেয়েছিলেন কিছু বখাটে ছেলের জন্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু উল্টোপাল্টা বলার জন্য।”
দলের মধ্যে কেউ বখাটে ছিল নাকি? সাংবাদিকদের প্রশ্ন শুনেই অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “দলে তো একটা বখাটে রয়েছে। নামকরা বখাটে।” তাঁর নাম কী? প্রশ্ন শুনেই কেষ্টর জবাব, “কেন নাম বলব? দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। বললাম তো দলে একটা বখাটে রয়েছে।” তাহলে কি দল থেকেও তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল? এবার কেষ্ট বললেন, “আশিসদার সঙ্গে বখাটের ভালো সম্পর্ক ছিল। ওকথা আর আজকের দিনে বলব না।” অনুব্রত স্পষ্ট না করলেও তৃণমূলের এক ‘বখাটে’ বলতে কেষ্ট কার দিকে ইঙ্গিত করছেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, শক্তিগড়ের ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেখছেন জানিয়ে অনুব্রত বলেন, “শক্তিগড়ে অন্যায় করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ওটা দেখবেন বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি পাশে রয়েছি। আমি দেখব’। মুখ্যমন্ত্রী দেখলে আমি খুশি। মুখ্যমন্ত্রী যা বলেন, তা করছেন এখন।”