
সিউড়ি: প্রথম দফার ভোটের আর সপ্তাহ দুয়েকও বাকি নেই। আবার এসআইআর নিয়েও চাপানউতোর জারি। এই অবস্থায় শুক্রবার বীরভূমের সিউড়িতে সার্কিট হাউসে সর্বদলীয় বৈঠক করলেন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল। সেই বৈঠকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জানালেন বিজেপির জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়রা। পাল্টা বৈঠক থেকে বেরিয়ে তৃণমূল অভিযোগ করল, মনোজ আগরওয়াল তোতাপাখির মতো কথা বলছেন। আর বৈঠক শেষে মনোজ আগরওয়াল জানান, এবছর শান্তিতে ভোট দেবেন সবাই। ভোট পরবর্তী হিংসা হবে না। ভোট শেষ হয়ে গেলেও প্রচুর বাহিনী থাকবে বীরভূমে।
এদিন সিউড়িতে সার্কিট হাউসে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি, তৃণমূল, সিপিআইএম এবং কংগ্রেস সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলার সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “মনোজ আগরওয়াল বিজেপির তোতাপাখির মতো কথা বলছেন। এসআইআর-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপি যেমন কথা বলে, সেই একই ভাষাতে বৈঠকে কথা বলেন তিনি।”
সিউড়ি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা লিস্ট তুলে দেব খুব শীঘ্রই কাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ পুলিশের খাতায় যাদের নামে এফআইআর হয়ে আছে। প্রকৃত অর্থে তারা ক্রিমিনাল নয়, যারা ক্রিমিনাল তারা বাইরে ঘোরাঘুরি করছে।” এছাড়াও তিনি আরও জানান, লক্ষ্মীর ভান্ডারের লিস্টে কারচুপি করে প্রকৃতদের বঞ্চিত করে তৃণমূল। ভোটের জন্য অন্যদের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা দিচ্ছে। এবং সিউড়ি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থীর প্রার্থীপদ খারিজ করার জন্য আবেদন করেছেন। এদিন সিইও মনোজ আগরওয়ালের কাছে এই আবেদন জানায় বিজেপি।
বৈঠক শেষে মনোজ আগরওয়াল জানান, “এসআইআর নিয়ে আমাদের কিছু করার নেই। সমস্তটাই হচ্ছে আদালতের নির্দেশে।” পাশাপাশি তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “এবছর কোথাও কোন গন্ডগোল তৈরি হবে না ভোট দেওয়ার সময়। সবাই নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন। এত পরিমাণ বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় থাকবে।” পাশাপাশি তিনি আরও জানান, “কোথাও কোনওরকম উত্তেজনা দেখা দিলে সেখানেই আবার ভোট হবে।” ভোট পরবর্তী হিংসা এবছর হবে না বলে আশ্বাস দিয়ে সিইও বলেন, “প্রচুর পরিমাণে সিআরপিএফ ভোটের পরও এই জেলাতে থাকবেন।”