
বোলপুর: এদিকে এগোচ্ছে ভোট, অন্যদিকে কোন্দল কাঁটায় জেলায় জেলায় বিদ্ধ হচ্ছে শাসকদল। অনুব্রত জেল থেকে বের হলেও হাওয়া খারাপ বীরভূমের। প্রায়শই আসছে গোষ্ঠীকোন্দলের খবর। এমতাবস্থায় আবার এদিন নেতাজি ইন্ডোরের বৈঠক থেকে মমতার বার্তা গিয়েছে অনুব্রতর উদ্দেশ্যেও। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এদিকে নেতাজি ইন্ডোরে যখন ভোটের দামামা বাজিয়ে দিল তৃণমূল সেদিনই আবার গোষ্ঠীকোন্দলে তপ্ত শান্তিনিকেতন থানার রূপপুর পঞ্চায়েতের মোমিনপাড়া গ্রাম। ঘটনায় এক সিভিক ভলান্টিয়র আহত হয়েছেন বলেও জানা যায়।
সূত্রের খবর, এই এলাকায় অনুব্রত মণ্ডল গোষ্ঠীর লোকজনের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই অশান্তি চলছিল বাবু দাস গোষ্ঠীর লোকজনদের। সম্প্রতি অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করতে বোলপুরে তৃণমূল কার্যালয়ে যাওয়ার কারণেই এই অশান্তির সূত্রপাত বলে জানা যাচ্ছে। এদিন দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বচসা হয়। অশান্তি চরমে উঠলে দুই পক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট বৃষ্টি করে বলে অভিযোগ। ব্যাপক মারধরও চলে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
অশান্তির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ বাহিনী। ইট বৃষ্টির সময়েই আবার এক সিভির ভলান্টিয়র ইটের আঘাতে জখম হন বলে জানা যায়। অন্যদিকে পুলিশ আসার খবর পেতেই কার্যত পুরুষ শূন্য হয়ে যায় গোটা গ্রাম। শেষে অশান্তি করার অভিযোগে দুই শিবিরের ১২ জন মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
“কেষ্ট, কাউকে কিন্তু বাদ দেওয়া যাবে না। কাজলকেও কনফিডেন্সে নিতে হবে।” এদিনই নেতাজি ইন্ডোরের মেগা বৈঠক থেকে অনুব্রত মণ্ডলকে এমনই বার্তা দিতে দেখা গিয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একইসঙ্গে ছাব্বিশের বিধানসভাকে সামনে রেখে সাংগঠনকে আরও মজবুত করতে একটি কমিটি তৈরির কথা শোনা গিয়েছে। সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা থাকলেও বীরভূমের কোনও নেতার নাম দেখা যায়নি। তা নিয়েও চাপানউতোর চলছে। তারমধ্যে ফের গোষ্ঠীকোন্দলের ঘটনা শাসক শিবিরের অস্বস্তি আরও বাড়াবে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের।