
বীরভূম: ৫ বছর আগে হয়েছিল ৮ দফায় ভোট। এবার ২ দফায় ভোট হবে বাংলায়। রবিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে। বিজেপিকে সুবিধে পাইয়ে দিতেই নির্বাচন কমিশন ২ দফায় ভোট ঘোষণা করেছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। এই আবহে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে কটাক্ষ করলেন বীরভূমের তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। ভোটের দফাকে গুরুত্ব দিতে চাইলেন না তিনি। তাঁর সুরে সুর মিলিয়ে বীরভূমের জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখও বললেন, বাংলায় ক্ষমতায় আসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই।
এদিন ২ দফায় ভোটের কথা শুনে কটাক্ষের সুরে অনুব্রত বলেন, “এক দফাতে ভোট হলেও আমাদের কোনও ব্যাপার নয়। এমনকি, অর্ধেক দফাতে ভোট হলেও অসুবিধা নেই। তৃণমূল কংগ্রেস ২৩০ থেকে ২৩৫টি আসন পাবে।” তৃণমূল সরকার সাধারণ মানুষের জন্য কী কী কাজ করেছে, সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরে অনুব্রত বলেন, “এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যায় রাস্তায় কে নেমেছে? কংগ্রেস নেমেছে? বামেরা নেমেছে? শুধুমাত্র তৃণমূল নেমেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেকারদের মাসে ১৫০০ টাকা দিচ্ছেন। লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা বাড়িয়েছেন। আজকে পুরোহিত ও মোয়াজ্জিনদের ভাতা বাড়িয়েছেন।”
বীরভূমে অনুব্রতর সঙ্গে কাজল শেখের দ্বন্দ্বের কথা প্রায়ই সামনে আসে। কিন্তু, বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে অনুব্রতর সুরে সুর মেলালেন তৃণমূল পরিচালিত বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি। কাজল বলেন, “আমরা ৩৬৫ দিন প্রস্তুত থাকি। ২০১১ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অভাবনীয় পরিবর্তন করেছেন বাংলায়। তার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানাই। চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মসনদে বসবেন। এক দফাতে ভোট হলেও কোনও চিন্তা নেই।” বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন কি না জানতে চাওয়া হলে কাজল শেখ বলেন, “দল আমাকে যখন যে নির্দেশ দিয়েছে, পালন করেছি। এখন সভাধিপতির দায়িত্ব পালন করছি। দল যদি বলে প্রার্থী হতে, সেই নির্দেশও মেনে চলব।”
আবার তৃণমূলের বীরভূম জেলার মুখপাত্র জামশেদ আলি খান বলেন, “নির্বাচন দুই কিংবা তিন দফায় হোক, তাতে কোনও যায় আসে না। বাংলার মানুষ, বীরভূমের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আছেন। বীরভূমের সমস্ত আসনে জয়লাভ করবে তৃণমূল।”