
দুর্গাপুজোর মণ্ডপে মা দুর্গার সঙ্গে সপরিবারে দেবদেবীরা আসেন। মহিষাসুরও নিজের মহিষ নিয়ে সগৌরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। কিন্তু বালুরঘাটের অভিযাত্রী ক্লাবের পুজো মণ্ডপে যে এমন এক জ্যান্ত ‘ভিআইপি’ অতিথি হঠাৎ করে ঢুকে পড়বে, তা বোধহয় কেউ দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি। বিনা আমন্ত্রণে, একেবারে সোজা মণ্ডপের ভেতর ঢুকে পড়ল এক পেল্লায় চেহারার ষাঁড়। আর তাতেই উৎসবের মেজাজ মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল চরম হুলস্থুলে!
প্যান্ডেলে তখন দর্শনার্থীদের ভালোই ভিড়। নতুন জামাকাপড় পরে সবাই চুটিয়ে ঠাকুর দেখছেন। জমিয়ে সেলফি তোলা, আড্ডা, আর আনন্দ একেবারে তুঙ্গে। ঠিক সেই সময়েই গুটিগুটি পায়ে মণ্ডপে প্রবেশ করল সেই অপ্রত্যাশিত অতিথি। একেবারে রক্তমাংসের এক বিশাল ষাঁড়কে চোখের সামনে দেখে চক্ষু চড়কগাছ সকলের। ব্যস, শুরু হল ম্যারাথন দৌড়। যে যেদিকে পারল, ছুটল। কারও পা থেকে জুতো খসল, তো কেউ আবার ব্যারিকেড টপকে সোজা বাইরে। মণ্ডপের ভেতর তখন রীতিমতো প্রাণ বাঁচানোর হুড়োহুড়ি।
ষাঁড় বাবাজি অবশ্য মানুষের এই কাণ্ডকারখানা দেখে বেশ অবাক। সে হয়তো নেহাতই পুজো মণ্ডপে একটু ঠাকুর দর্শন করে পুণ্য সঞ্চয় করতে চেয়েছিল। কিন্তু মানুষজন তাকে দেখে এমন প্রাণভয়ে ছুটোছুটি করছে কেন, তা সে ঠিক বুঝে উঠতে পারল না। সেও ছুটতে লাগল। অবস্থা বেগতিক দেখে খবর দেওয়া হল পুলিশকে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। তবে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যে মুখের কথা নয়, তা কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যায়। রীতিমতো ঘাম ঝরিয়ে, চরম কসরত করে পুলিশকর্মীরা সেই ষাঁড়টিকে মণ্ডপের বাইরে বের করে আনেন।
অনেক সাধ্যসাধনার পর অবশেষে মণ্ডপ থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে সেই ষাঁড়। হয়তো তারও ততক্ষণে ঠাকুর দেখা শেষ হয়ে গিয়েছিল! ষাঁড়টি বেরিয়ে যাওয়ার পর হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন দর্শনার্থী থেকে শুরু করে পুজো উদ্যোক্তারা। বালুরঘাটের অভিযাত্রী ক্লাবের পুজো এবার একেবারে অন্য মাত্রা পেয়ে গেল। ঠাকুর দেখা শেষ হলেও, দর্শনার্থীদের মুখে মুখে ঘুরছে শুধুই এই মজাদার ‘ষাঁড়-দর্শন’-এর গল্প।