
কলকাতা: বামেদের বুক স্টল ভাঙা নিয়ে তুমুল বিতর্ক। জায়গায় জায়গায় বুক স্টলে হামলা, বই ছিঁড়ে ফেলা বা স্টল ভেঙে পড়ার অভিযোগ উঠছে। সপ্তমীর রাতে যাদবপুরে বুকস্টলে বুলজোজার অ্যাকশন নিয়েও চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বামেদের করা মামলাা খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। এবার সিপিএমের বুক স্টল নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “আমরা সব বই-প্রেমী, বই বিরোধী নই। কিন্তু আপনি পুষ্পাঞ্জলী দেবেন না, নবমীর আরতি করবেন না, সিদুঁর খেলবেন না, হাতে ডোর লাগাতে গেলে বলবেন, না না লাগাব না। টিকা লাগাতে গেলে বলবেন, না কপালে লাগাবেন না। গলায় তুলসী রাখবেন না। সনাতনী হিন্দুত্বের যে পরম্পরা রয়েছে, তার বিরোধিতা করবেন। তারপরে আপনি গিয়ে দুর্গাপুজোর মণ্ডপের সামনে গিয়ে বইয়ের দোকান বানাবেন!”
তিনি আরও বলেন, “কর্পোরেশন বা সরকার যা করেছে, হাইকোর্টের নির্দেশে করেছে। কাউকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোনও দরকার নেই। একটা উঠে যাওয়া পার্টি পশ্চিমবঙ্গ থেকে, তাকে প্রাসঙ্গিক করার কোনও দরকার নেই। হাইকোর্ট এটা খারিজ করে ঠিকই করেছে। কারণ যারা দুর্গাপুজোকেই মানে না, যে কোনও পুজোই মানে না। যারা বেদ, উপনিষদ, গীতা- তাকেই স্বীকার করে না, তাদেরকে পুজোর সময় বই বিক্রি করতে না দেওয়াই ভালো। পার্টি অফিসের ভিতরে বই রাখুন, সব পার্টি অফিস খোলা আছে। প্রায় চার-পাঁচ হাজার প্রাসাদের মতো পার্টি অফিস আছে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে। সেই অফিসে গিয়ে যার দরকার, সে মার্ক্সীয় তত্ত্ব নেবে। আমরা ভারতীয় তত্ত্বে বিশ্বাস করি, যা অনেক বেশি সমৃদ্ধ। সুভাষবাবুর তত্ত্ব, স্বামী বিবেকানন্দের তত্ত্ব। গীতাকে আমরা শুধু ধর্মগ্রন্থ হিসাবে নয়, বিজ্ঞান হিসাবে দেখি।”
চোরবাগানের ঘটনা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েও বামেদের এক হাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের মধ্যে এরা নেই, আপনারা দেখেছেন আহতদের সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে যেতে? যখন ১৯টা বডি বেরল, ফুল দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিল? এদের কোনও নেতাকে দেখেছেন কোনও বাড়িতে যেতে?”
প্রসঙ্গত, সপ্তমীর রাতে যাদবপুরে বামেদের বুক স্টল ভাঙা নিয়ে যে বিতর্ক হয়, তারপরই দলের তরফে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ আনা হয়। তবে আজ, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বামেদের সেই মামলা খারিজ করে দেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি পার্থপ্রতিম রায়। নৈহাটি, বনগাঁয় বামেদের বুকস্টল নিয়ে মামলা প্রধান বিচারপতির এজলাসে বিচারাধীন। তাই যাদবপুর নিয়ে আলাদা কিছু বলতে চায়নি বিচারপতি পার্থপ্রতিম রায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ।