
বারাসত: ‘দাদা ইজ ব্য়াক!’, আপাতত বারাসত মেডিক্য়াল কলেজের ‘পোস্টার বয়’ আরজি কর-কাণ্ডের আবহে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ‘দাদাগিরি’তে নাম জড়ানো অভীক দে ও বীরূপাক্ষ বিশ্বাস। একদিকে যেখানে সোমে রাজ্যে চিকিৎসক মহলের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়।
তখনই সেই বৈঠকের আগে ফের প্রকাশ্যে অভীক-বীরূপাক্ষের ‘দাপট’। মুখ্যমন্ত্রীর সভার দিনেই বারাসত মেডিক্যাল কলেজে আয়োজন হয়েছে বার্ষিকী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আর সেই অনুষ্ঠান উপলক্ষেই একদম কলেজের মূল গেটের বাইরে লাগানো হয়েছে দু’টি বড় প্ল্যাকার্ড। কী রয়েছে তাতে? তাতে লেখা ‘দাদা ইজ ব্যাক’ সঙ্গে একটিতে ছাপা অভীক দে-র ছবি। অন্যটি বীরূপাক্ষ বিশ্বাসের।
উল্লেখ্য, আরজি কর-কাণ্ড ঘিরে যখন পারদ চড়েছিল রাজ্যের একাধিক মেডিক্যাল কলেজে। সেই আবহেই উঠে আসে এই দুই চিকিৎসকের নাম। সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ‘দাদাগিরি’র অভিযোগ ওঠে অভীক এবং বীরূপাক্ষের বিরুদ্ধে। এমনকি, আরজি কর-কাণ্ডের পরেও ঘটনাস্থলে অভীকের উপস্থিতি নিয়েও উঠেছিল একাধিক প্রশ্ন। পরবর্তীতে সেই সূত্র ধরেই মেডিক্যাল কাউন্সিলের বৈঠকে তাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা লাগলে, বিতর্ক থামতেই আবার কাউন্সিলে স্বমহিমায় ফেরেন তারা।
তবে বারাসত মেডিক্যাল কলেজে এই বার্ষিকী অনুষ্ঠানের অনুমোদন নিয়েই অসন্তুষ্ট রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর কথায়, ‘আজকের বৈঠক নিয়ে সকল চিকিৎসকরা অত্যন্ত উৎসাহী। আর এই রকম একটা দিনে বারাসত মেডিক্যাল কলেজে নিজস্ব বার্ষিকী অনুষ্ঠানে, আমরা অসন্তুষ্ট। যেখানে সেই কলেজের অধ্যক্ষ নিজেই হয়তো আজকের বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। সেখানে দাঁড়িয়ে কীভাবে আজ এই অনুষ্ঠানে অনুমোদন দেওয়া হল?’
এই অনুষ্ঠানের জন্য দেওয়া পোস্টারে আবার নাম রয়েছে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের। কিন্তু তাঁকে না জানিয়েই তাঁর নাম ব্যবহার হয়েছে বলে দাবি করেন সাংসদ। তাঁর কথায়, ‘কাউকে না জানিয়েই এটা করা হয়েছে।’ এরপরই অভীক-বীরূপাক্ষের পোস্টার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা সরাসরি প্রশাসনের বিরোধিতা।’