
কোচবিহার : তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি (BJP)। তারপর থেকেই দেখা যাচ্ছে প্রতিজ্ঞা পূরণে কেউ চুল কাটছেন, কেউ দাড়ি কামাচ্ছেন। কিন্তু, এবার যা ঘটল তা অভাবনীয়। বিজেপি সরকার গঠন না করা পর্যন্ত ভাত খাবেন না প্রতিজ্ঞা করেছিলেন এক কর্মী। তবে, সেটা এক বা দুই দিন কিংবা এক বা দুই বছরের ব্য়াপার নয়। ১০ বছর ভাত খাননি। অবশেষে তৃণমূলকে (Tmc) হারিয়ে বিজেপি সরকার গঠন করতেই এতবছরের প্রতিজ্ঞা ভাঙলেন তিনি। ঘটা করে অনুষ্ঠান করে ভাত খেলেন ওই বিজেপি কর্মী।
শীতলকুচি (Sitalkuchi) ব্লকের ভাঐরথানা গ্রাম পঞ্চায়েতের আওয়ালি কুড়া বুথের ঘটনা। ওই বিজেপি কর্মীর নাম সুভাষ বর্মণ। ২০১৬ সালের কোচবিহার লোকসভা উপনির্বাচনে বিজেপির পোলিং এজেন্ট ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ফল ঘোষণার পরদিন তাঁর বাড়িতে হামলা চালায় তৃণমূল সমর্থকেরা। এছাড়া আরও কয়েকজন বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর, লুঠপাট করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকী, রান্না করা ভাতের হাঁড়িও ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তারপরই তিনি প্রতিজ্ঞা করেন বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তিনি ভাত খাবেন না।
তারপর কেটে গিয়েছে ১০ বছর। মাঝে আরও একটা বিধানসভা নির্বাচন ও লোকসভা নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু, বিজেপি জিততে পারেনি। তাই অপেক্ষা বেড়েছে সুভাষের। কিন্তু প্রতিজ্ঞা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ভাঙেননি। ছুঁয়েও দেখেননি ভাত। অবেশেষে ২০২৬-এ তাঁর প্রতিজ্ঞাপূরণ হয়। বিজেপি জিততেই ঘটা করে ভাত খাওয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। রবিবার রাতে সাজো সাজো রব ছিল এলাকায়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় এলাকার মানুষকেও। পাত পেড়ে খাওয়ানো হয় তাঁদেরও। অনেকে আবার অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানের সঙ্গেও তুলনা করেছেন।
সুভাষ বর্মণের ভাত খাওয়ার অনুষ্ঠান নিয়ে এক বিজেপি কর্মী বলেন, “অন্নপ্রাশনের মতোই অবস্থা। গত ১০ বছর ধরে ভাত খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন সুভাষ ভাই। কারণ ১০ বছর আগে ২০১৬ ও ২০১৭ পরপর দুই বছর ১০ থেকে ১৫টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ভাঙচুর করে তৃণমূলের হার্মাদ বাহিনী। রান্নার বাসনপত্রও ভেঙেচুড়ে দেয়। সেইসময় তাঁরা প্রতিবাদ করতে পারিনি আমরা। তাই সুভাষ ভাই প্রতিজ্ঞা করে বসেন, যতদিন না বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসে, ততদিন পর্যন্ত ভাত খাবেন না।”