
কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এক ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ (Article 142) প্রয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পরেও ট্রাইব্যুনালে যাঁদের নাম বৈধ বলে প্রমাণিত হবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। এই রায়কে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন খুশির হাওয়া শাসক শিবিরে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘আজ আমার থেকে খুশি আর কেউ নন।’
সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ নির্দেশ
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময় আগে ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয় (এক্ষেত্রে ৬ ও ৯ তারিখ)। এরপর তালিকায় আর কোনো পরিবর্তন করা যায় না। কিন্তু বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ সংবিধানের ১৪২ ধারার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই আইনি বাধা সরিয়ে দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ— আগামী ২১ তারিখ একটি তালিকা বেরোবে এবং ২৭ তারিখ ট্রাইব্যুনাল চূড়ান্ত ঘোষণা করবে। ট্রাইব্যুনালে যাঁদের নাম ‘পাশ’ হয়ে যাবে, তাঁদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নতুন করে ভোটার স্লিপ বিলি করতে হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া
এই খবর পাওয়ার পর দিনহাটার সভা থেকে হেলিকপ্টারে ওঠার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আজ আমার থেকে খুশি আর কেউ নেই। আমি বারবার বলছিলাম ধৈর্য ধরুন, ট্রাইব্যুনালে আবেদন করুন। আমি নিজে এই নিয়ে মামলা করেছিলাম, আজ বিচারব্যবস্থা নিয়ে আমি গর্বিত।” তিনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন, তালিকা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন ভোটার স্লিপ তৈরি করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।
বামেদের পাল্টা দাবি
মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছে বাম শিবির। প্রবীণ আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেন, এই আইনি লড়াইয়ের মূল কৃতিত্ব মুর্শিদাবাদের এক সাধারণ মহিলা মোস্তারি বানুর। তিনি প্রথম সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের দাবি, “এই কথার জবাব দেওয়া নামে মিথ্যার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা। সুপ্রিম কোর্ট যে অর্ডার দেবে, তা বিগত দিনেই পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল। আমরা যখন বলেছিলাম, যারা ট্রাইবুনালে পাশ করছেন, তাঁদের ভোট দিতে দেওয়া হোক, তখন সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, হ্যাঁ দেওয়া হোক, আমাদের তো ১৪২ পাওয়ার রয়েছে। তখন ইঙ্গিতটাই খুব স্পষ্ট ছিল।”