
বালুরঘাট: রাত পোহালেই রাম মন্দিরের (Ram Mandir) উদ্বোধন। আর তাতেই যেন আবেগ ধরে রাখতে পারছেন না বালুরঘাট শহরের ডি মোরের চা ব্যবসায়ী মলয় সরকার ওরফে বিশু(৫৮)। চিরকালই এলাকায় রামভক্ত বলেই পরিচিত। ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় যখন রাম মন্দিরের উদ্বোধনের দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এলাকায় বিনামূল্যে চা বিস্কুট খাওয়াবেন তিনি। যারা দোকানে আসবেন তাদেরই বিনা পয়সায় চা বিস্কুট খাওয়াবেন বলে জানাচ্ছেন বিশু৷ ইতিমধ্যে বিনামূল্যে চা খাওয়ানোর ফ্লেক্স দিয়ে দোকানের সামনে ঝুলিয়ে ঘোষণা করে দিয়েছেন বিশু। আর্থিক অনটন সংসারে থাকার পরও বিশুর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিশুর বাড়ি শহরের নাইন জুয়েলস ক্লাব সংলগ্ন এলাকায়। বিয়ে করেননি। বাড়িতে বর্তমানে ভাই, ভাইঝি ও ভাইয়ের স্ত্রী আছে৷ সেখানেই তিনি খাওয়া দাওয়া করেন। শারীরিক সমস্যার জন্য ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না তিনি। দীর্ঘ ১৪-১৫ বছর ধরে বালুরঘাট শহরেশহরের নাইন জুয়েলস ক্লাব সংলগ্ন এলাকায়র সত্যজিৎ সিনেমা হল সংলগ্ন ডি মোড়ে চায়ের দোকান করে আসছেন। চায়ের দোকান থেকে যা আয় হয় তা দিয়েই সংসার খরচ চালান, দাঁড়ান অসহায় মানুষদের পাশে। অনেক ভবঘুরে ও অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে চা-বিস্কুটও খাওয়ান৷
দীর্ঘদিন ধরেই শুনে আসছেন রাম মন্দির হচ্ছে। অবশেষে আগামী সোমবার তার শুভ উদ্ধোধন হবে। তাই ভগবান রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ওই দিন সাধারণ মানুষদের বিনামূল্যে চা ও বিস্কুট খাওয়াবেন বলে জানাচ্ছেন তিনি। সকালে দোকান খোলা থেকে রাতে দোকান বন্ধ পর্যন্ত যতক্ষণ দোকান খোলা থাকবে বিনামূল্যে চা এবং বিস্কুট খাওয়াবেন বলে জানিয়েছেন৷ শুধু মুখে ঘোষণা নয়, রীতিমতো ফ্লেক্স করে দোকানের সামনে তা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। সাফ বলছেন, সবাই আসুন। কারও থেকে টাকা নেব না।
মলয় সরকার ওরফে বিশু’র এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চা প্রেমী থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা। রোজই দোকানে চা খেতে আসেন এলাকারই বাসিন্দা নন্দন ভৌমিক। খুশি তিনিও। বলছেন, ও তো খুব সাধারণ মানুষ। তারপরেও এই উদ্যোগ নিয়েছে। খুব ভাল। ও মনে শান্তি পেলে সেটাই আসল। এটা তো খুবই খুশির ব্যাপার যে এতদিন পর রাম মন্দির হচ্ছে।