
দার্জিলিং: পাহাড়ের রাজনীতিতে বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার দার্জিলিঙের লেবংয়ে এক নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তাঁর হেলিকপ্টার নামতে না পারায় সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি। তবে পাহাড়বাসীকে নিরাশ না করে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে রাজ্য সরকার ও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানালেন শাহ।
ভিডিও বার্তায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজ্য প্রশাসন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হাজার হাজার গোর্খা যুবক ও সাধারণ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। তিনি বলেন, “পাহাড়ের গোর্খাদের ওপর যে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা চাপিয়ে পুলিশি রাজ চালানো হচ্ছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই তা বন্ধ হবে। আমরা সরকার গঠনের পর সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে।” পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার আশ্বাসও দেন তিনি।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে সরাসরি নিশানা করে শাহ বলেন, “আমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে অন্তত তিনবার পাহাড়ের সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক ডেকেছিলাম। কিন্তু ‘দিদি’ বা তাঁর কোনো প্রতিনিধি সেই বৈঠকে উপস্থিত হননি। তাঁরা পাহাড়ের মানুষের সমস্যার সমাধান চান না।” তিনি আরও জানান, সরকার আলোচনার জন্য একজন মধ্যস্থতাকারী (ইন্টারলোকিউটর) নিয়োগ করলেও রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে কাজের কাজ কিছু হয়নি।
বক্তব্যের শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ হবে এবং পাহাড়ের মানুষ তাঁদের যোগ্য সম্মান ও ন্যায়বিচার পাবেন। অমিত শাহের এই বার্তায় পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ নির্বাচনের আগে নতুন মাত্রা পেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।