
শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির করিডরে কাটার হুমকি দিয়ে উত্তর পূর্বকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র যারা করেছিল, তাদের মদত দিয়েছে তৃণমূল। এবার বাংলায় দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর কটাক্ষ, টুকরে টুকরে গ্যাং-এর সেই সমস্ত লোকজনদের তৃণমূল রাস্তা থেকে সংসদ পর্যন্ত সমর্থন করে। এটাই ওদের আসল চেহারা।
মোদী বলেন, “দেশে এক টুকরে টুকরে গ্যাং রয়েছে। এই গ্যাং শিলিগুড়ি করিডরকে কেটে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। উত্তর পূর্বকে দেশ থেকে আলাদা করার দাবি তুলেছিল। তৃণমূল এই ধরনের লোকদের রাস্তা থেকে সংসদেও সমর্থন করে।” তিনি বলেন, “বিজেপির জন্য শিলিগুড়ি করিডর দেশের সুরক্ষা ও সমৃদ্ধির করিডর। আমাদের লাগাতর এর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।”
তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “অন্তত মহারাজ কোন দলের? বিজেপির তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে। অনন্ত মহারাজও তো বলেছিলেন, উত্তরবঙ্গকে আলাদা করতে হবে, কোচবিহারকে আলাদা করতে হবে, কে টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের কথা বলেন? অনন্ত মহারাজকে কি দল থেকে তাড়ানো গিয়েছে?”
তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করতে এই করিডরের দোহাই দিচ্ছে। তৃণমূলের দাবি, সীমান্ত রক্ষা এবং করিডরের নিরাপত্তা কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর দায়িত্ব, সেখানে রাজ্য সরকারকে দায়ী করা অমূলক।
উল্লেখ্য, এর আগে উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে অনন্ত মহারাজ তাঁর দীর্ঘদিনের ‘পৃথক কামতাপুর’ বা ‘গ্রেটার কোচবিহার’ রাজ্যের দাবি থেকে কিছুটা সরে এসে উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার দাবিতে বেশি সোচ্চার হন। তাঁর এই ধরনের বক্তব্যে বিজেপি কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়ে। অনন্ত মহারাজের সংগঠন ‘দ্য গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন’ উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় অত্যন্ত প্রভাবশালী। সেক্ষেত্রে অনন্তের মন্তব্যে বিজেপি বিরোধিতার গন্ধও পান রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে উত্তরবঙ্গে দাঁড়িয়ে মোদীর মুখে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’এই শব্দবন্ধ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।