
হাওড়া: দুর্গাপুজোয় (Durga Puja 2026) রাত জেগে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা রয়েছে? তাহলে আপনার জন্য সুখবর। পুজোর ভিড় সামলাতে এবার বিশেষ ব্যবস্থা করল পূর্ব রেল (Eastern Railway)। ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত হাওড়া ডিভিশনে চলবে বাড়তি লোকাল ট্রেন (Local Train)। শুধু তাই নয়, রাত জেগে ঠাকুর দেখে বাড়ি ফেরার জন্য বিশেষ রাতের লোকাল ট্রেনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, যাত্রীদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে টিকিট কাউন্টার, চিকিৎসা পরিষেবা, একাধিক ক্ষেত্রে বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। পুজোর দিনগুলিতে হাওড়া স্টেশনে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ লক্ষ যাত্রীর ভিড় হতে পারে বলে অনুমান পূর্ব রেলের।
পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশন জানিয়েছে, আগামী ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পুজোর ভিড় সামলাতে একাধিক বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। হাওড়া থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে সাত জোড়া বিশেষ দূরপাল্লার ট্রেন চলবে। পাশাপাশি, সাত জোড়া বিশেষ লোকাল ট্রেনের (EMU) পরিষেবারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়া, হাওড়া ডিভিশনের মধ্যে দিয়ে ২৫ জোড়া পুজো স্পেশাল ট্রেন চলাচল করছে। ফলে পুজোর দিনগুলিতে যাত্রীদের যাতায়াত অনেকটাই সহজ হবে বলে আশা রেল কর্তৃপক্ষের।
পুজোয় অনেকেই হোলনাইট ঠাকুর দেখেন। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই রাতে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সাতটি বিশেষ লোকাল পরিষেবা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল।
বর্ধমান-হাওড়া, হাওড়া-চাঁদনপুর, ব্যান্ডেল-হাওড়া, তারকেশ্বর-শেওড়াফুলি-সহ একাধিক রুটে এই বিশেষ পরিষেবা পাওয়া যাবে।শুধু তাই নয়, হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশনের মধ্যে রাতের যোগাযোগ আরও সহজ করতে ডানকুনি এবং নৈহাটি হয়ে বিশেষ ট্রেন পরিষেবারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুজোর ভিড়ে টিকিট কাটতে গিয়ে যাতে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে না হয়, তার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে রেল। হাওড়া স্টেশনে ৩০টি ইউটিএস (UTS) কাউন্টার এবং ২৮টি অটোমেটিক টিকিট ভেন্ডিং মেশিন বা এটিভিএম (ATVM) থাকবে।
পুজোর ভিড়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে চলাচলকারী ৭৫টি ট্রেনে বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকবেন। প্রতিটি এসকর্ট দলে মহিলা আরপিএফ কর্মী-সহ দু’জন সদস্য থাকবেন।
এছাড়া, গোটা হাওড়া ডিভিশনে ২,৯০২টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। এর পাশাপাশি আরও ১২৮টি সৌরচালিত সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা ডিভিশনাল ওয়ার রুম থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাওড়া, রামপুরহাট, ব্যান্ডেল ও বর্ধমানে কুইক রিঅ্যাকশন টিম প্রস্তুত থাকবে। শুধুমাত্র হাওড়া স্টেশনেই পুজোর ডিউটিতে থাকবেন ৬৪ জন আরপিএফ আধিকারিক এবং ২৫৪ জন আরপিএফ কর্মী।
পুজোর ভিড়ে কোনও যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে যাতে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া যায়, তার জন্যও ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাওড়া, ব্যান্ডেল, বর্ধমান, কাটোয়া, বোলপুর এবং আজিমগঞ্জে অ্যাম্বুল্যান্স রাখা হবে।
পাশাপাশি, হাওড়া ও বর্ধমানে ২৪ ঘণ্টা তিনটি শিফটে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে রেল।
পুজোর প্রস্তুতি প্রসঙ্গে হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম বিশাল কাপুর বলেন, “পুজোর আনন্দ শেষে প্রত্যেক যাত্রী যাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই গোটা ব্যবস্থা করা হয়েছে।”