
পুজোর আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। পাড়ায় পাড়ায় মণ্ডপ তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। পুরোদমে চলছে কেনাকাটা। কিন্তু উৎসবের এই ভরা মেজাজের মাঝেই আচমকা উদ্বেগের কালো মেঘ। বঙ্গোপসাগরের দিক থেকে ফের নতুন করে দুর্যোগের ভ্রুকুটি দেখা দিয়েছিল। জানা গিয়েছে, মায়ানমারে একটি গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই খবর সামনে আসার পর থেকে সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, উৎসবের ঠিক মুখেই এই নতুন সিস্টেমের জেরে কি ফের একবার ভারী বৃষ্টির মুখে পড়তে চলেছে বাংলা? পুজোয় কি তবে প্যান্ডেল হপিংয়ের আনন্দ মাটি হবে?
কী বলছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর?
হাওয়া অফিস সূত্রের যা খবর, তাতে অবশ্য কিছুটা স্বস্তির শ্বাস ফেলা যেতে পারে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মায়ানমারে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি ইতিমধ্যেই একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। সিস্টেমটি ক্রমশ উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশ, মায়ানমার, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও সংলগ্ন এলাকার দিকে সরছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এটি ধীরে ধীরে আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। আর ঠিক সেই কারণেই বাংলায় আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনও আশঙ্কা নেই। নিম্নচাপের যে চরম প্রভাব পড়ার কথা ভাবা হচ্ছিল, তা থেকে রেহাই পেতে চলেছে বাংলা।
তবে ভারী বৃষ্টির বড়সড় কোনও সতর্কতা না থাকলেও, এখনই পুরোপুরি শুকনো আবহাওয়া মিলছে না। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, সেপ্টেম্বর মাসের বাকি কটা দিনে রাজ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশ কম। বুধবার বিক্ষিপ্তভাবে দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, মূলত আংশিক মেঘলাই থাকবে আকাশ। তবে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার উপকূলের কাছাকাছি জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ সামান্য বাড়তে পারে। কলকাতাতেও এই দু’দিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দু-এক পশলা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা কার্যত নেই বললেই চলে। কিন্তু বৃষ্টি কমলেও ভ্যাপসা গরম পিছু ছাড়বে না। বাতাসে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বেশ ভোগাবে। বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৬০ থেকে ৯৬ শতাংশ।
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া নিয়েও আপডেট দিয়েছে হাওয়া অফিস। উত্তরবঙ্গেও আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই। বুধবার বৃষ্টির সম্ভাবনা সামান্য। তবে বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত দার্জিলিং-সহ উত্তরের ওপরের দিকের পাঁচটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। সোমবার থেকে সেখানেও বৃষ্টির দাপট কমবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও মায়ানমার উপকূলে সমুদ্র উত্তাল থাকবে। উত্তর-পূর্ব এবং পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ৪৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বাংলার উপকূলে মৎস্যজীবীদের জন্য আলাদা করে কোনও সতর্কতা নেই। তবে বুধবার উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের গভীরে ও বাংলাদেশ উপকূলের দিকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
অর্থাৎ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যা, তাতে দুর্যোগের বড় কোনও সতর্কতা নেই। পুজোর মুখে কেনাকাটায় এই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি খুব একটা বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। নিম্নচাপের চোখরাঙানি না থাকলেও, ভ্যাপসা গরম আর মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরি খেলা চলবে। তাই শপিংয়ে বেরোলে ছাতাটা সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।