
হুগলি: এক মাসের বেশি কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সরকার ত্রাণ আত্মসাৎ, তোলা আদায়-সহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত তাঁকে যখন পাওয়া গেল, পুলিশই থ হয়ে গেল। একেবারে ভোল বদলে ফেলেছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। এক মুখ দাড়িতে তাঁকে চেনাই দায়। ভোল বদলেও অবশ্য শেষ রক্ষা হল না। হুগলির পোলবা থানার পুলিশ গ্রেফতার করল আকনা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান নির্মল ঘোষকে।
রাজ্যে পালাবদলের পর বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের প্রধান, উপপ্রধানদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ উঠছে। গ্রেফতার হয়েছেন অনেকে। আবার অনেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। পঞ্চায়েতে আসছেন না। তেমনই আকনা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ জুন নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণ আত্মসাৎ, বিভিন্ন এলাকায় তোলা আদায়, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো-সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধারায় পোলবা থানায় মামলা রুজু হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হতেই গা ঢাকা দেন তৃণমূলের উপপ্রধান। গতকাল শ্যামনগরে এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে নির্মল ঘোষকে দেখে চেনা দায়। তাঁর এক মুখ দাড়ি। পোলবা থানার নবনিযুক্ত ওসি তন্ময় বাগের নির্দেশে তদন্তকারী অফিসার এসআই রাকেশ দাস এসওজি (SOG)-এর সহায়তায় এই অভিযান চলে।
ধৃত উপপ্রধানকে এদিন চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে তোলার সময় হাত দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করেন নির্মল ঘোষ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি তিনি। তড়িঘড়ি পুলিশের ভ্যানে উঠে পড়েন। তবে ধৃত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে তোলাবাজি করতেন উপপ্রধান। ভয় দেখিয়ে টাকা নিতেন। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও তৃণমূল উপপ্রধানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।