Hooghly: ‘স্বামী-স্ত্রীর পঞ্চায়েত’, তৃণমূল প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ঘাসফুল সদস্যদেরই

Hooghly TMC Pradhan No-Confidence Motion: পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান সুজিত কুমার দাসের অভিযোগ, "বিগত কয়েক বছর ধরে পঞ্চায়েতটা হয়ে গিয়েছিল স্বামী স্ত্রীর পঞ্চায়েত। শুধুমাত্র পঞ্চায়েত প্রধানের এলাকাতেই উন্নয়ন হয়েছে। আর কোথাও হয়নি।দুর্নীতি হয়েছে। পঞ্চায়েতের সম্পদ যেগুলো ছিল, সেগুলোকে নষ্ট করা হয়েছে।"

Hooghly: স্বামী-স্ত্রীর পঞ্চায়েত, তৃণমূল প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ঘাসফুল সদস্যদেরই
এদিন পঞ্চায়েত অফিসে আসেননি প্রধানImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Aug 07, 2026 | 8:11 PM

হুগলি: তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত। খাতায় কলমে পঞ্চায়েত প্রধান তৃণমূলেরই মহিলা সদস্য। অভিযোগ, বকলমে পঞ্চায়েত চালান তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী। এতদিন এই নিয়ে সদস্যরা সরব হলেও কর্ণপাত করা হয়নি বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার ওই পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলেন তৃণমূলেরই সদস্যরা। অনাস্থাকে সমর্থন করলেন বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যরা। ঘটনাটি হুগলির মগরার। তৃণমূল উপপ্রধানের দাবি, ‘স্বামী-স্ত্রী’ পঞ্চায়েত থেকে মুক্তি চান তাঁরা।

হুগলির মগরা দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৯ জন সদস্য ছিলেন। একজন তৃণমূল সদস্য পদত্যাগ করেছেন আগেই। ছয়জন বিজেপির সদস্য রয়েছেন। বাকিরা সব তৃণমূলের। অভিযোগ, পঞ্চায়েতে জয়শ্রী পাল নামেই প্রধান ছিলেন। পঞ্চায়েত চালাতেন প্রধানের স্বামী রাজা পাল।

পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান সুজিত কুমার দাসের অভিযোগ, “বিগত কয়েক বছর ধরে পঞ্চায়েতটা হয়ে গিয়েছিল স্বামী স্ত্রীর পঞ্চায়েত। শুধুমাত্র পঞ্চায়েত প্রধানের এলাকাতেই উন্নয়ন হয়েছে। আর কোথাও হয়নি।দুর্নীতি হয়েছে। পঞ্চায়েতের সম্পদ যেগুলো ছিল, সেগুলোকে নষ্ট করা হয়েছে। যে কারণে আমরা ১৫ জন সদস্য একযোগে প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছি। চুঁচুড়া মগরা ব্লকের বিডিও রাজীব পোদ্দারের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।” এরপরই তিনি বলেন, “আগামীদিনে এই পঞ্চায়েত জনগণের পঞ্চায়েত হবে। আগে যেটা পারিবারিক ছিল। পঞ্চায়েত সদস্যদের কাজ ছিল শুধুমাত্র বৈঠকে এসে সই করা। আর কিছু কাজ ছিল না।” প্রধান কে হবেন, জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেব। এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।” এদিন পঞ্চায়েত প্রধান জয়শ্রী পাল অফিসে আসেননি। ফোনেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। 

 

তৃণমূল প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন তৃণমূলেরই সদস্যরা

কী বলছে বিজেপি?

পঞ্চায়েতে বিরোধী দলনেতা বিজেপির সদস্য প্রীতম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি অনাস্থা আনেনি। অনাস্থা এনেছে তৃণমূল। দুর্নীতিবাজ প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থাকে আমরা শুধু সমর্থন জানিয়েছি। আগে দেখা যেত, যেকোনও কাজে একজন ঠিকাদারই বরাত পেতেন। আমরা স্বচ্ছ পঞ্চায়েত চাই। তাই অনাস্থায় সায় দিয়েছি।”

তাঁরা পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করবেন কি না, জানতে চাওয়ায় প্রীতম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূলের সঙ্গে পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনে আমরা থাকব না। দায়িত্বশীল বিরোধীর ভূমিকা পালন করব। ২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে জনতা যে রায় দিয়েছে, সেই অনুযায়ী পঞ্চায়েত চলবে। আবার যদি পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপিকে মানুষ সমর্থন করে, তখন বিজেপি পঞ্চায়েত পরিচালনা করবে।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us