
খানাকুল: ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর আচমকা বেড়েছিল ট্রেকারের দাপট। তার জেরে ১৪ বছর আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বাস চলাচল। ট্রেকারের ছাদে বসে, পাশে ঝুলে ঝুলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এতদিন যাত্রীদের চলাচল করতে হয়েছে। সরকার বদলাতেই বদলে গেল সবকিছু। দীর্ঘ ১৪ বছর পর হুগলির খানাকুলের চব্বিশপুর থেকে তারকেশ্বর যাত্রীবাহী বাস পরিষেবা ফের চালু হল। কথা দিয়ে কথা রাখলেন পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ। তাঁর উদ্যোগে মঙ্গলবার থেকে ফের বাস চালু হল। বাস পরিষেবা ফের চালু হওয়ায় এলাকার মানুষজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর এই রুটে ট্রেকারের সংখ্যা আচমকা বেড়ে যায়। অভিযোগ, এই সমস্ত টেকার তৃণমূল নেতাদের ছত্রছায়ায় ছিল। তাই রাস্তা থেকে উঠে গিয়েছিল যাত্রীবাহী বাস। চব্বিশপুর এলাকাটি খানাকুল থানার মধ্যে পড়লেও পুরশুড়া বিধানসভার অন্তর্গত। বিধানসভা ভোটের আগে পুরশুড়ার বিজেপি প্রার্থী বিমান ঘোষ কথা দিয়েছিলেন, যদি তাঁরা সরকারে আসতে পারেন, তাহলে প্রথম কাজ হবে এই চব্বিশপুর থেকে যাত্রীবাহী বাস পরিষেবা চালু করা।
নিজের প্রতিশ্রুতি ভোলেননি বিমান ঘোষ। কয়েকদিন আগেই প্রশাসনিক বৈঠকে ঠিক হয়, ৭ জুলাই থেকে বাস পরিষেবা ফের শুরু হবে। সেইমতো মঙ্গলবার খানাকুলের চব্বিশপুর বাজারে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাস পরিষেবার সূচনা হল। উপস্থিত ছিলেন আরামবাগের এআরটিও, খানাকুল ১ নম্বর ব্লকের বিডিও-সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক।
কী বলছেন বিধায়ক ও সাধারণ মানুষ?
নিজের প্রতিশ্রুতি রাখা নিয়ে বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, “ফের বাস পরিষেবা চালু নিয়ে মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। আমাদের সংকল্পপত্রেও এই বাস চালুর কথা বলা হয়েছিল। সেইমতো পদক্ষেপ করা হয়েছে।” বাস পরিষেবা ফের শুরু হওয়ায় খুশির জোয়ার এলাকায়। পরেশচন্দ্র বেরা নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “খুবই উপকার হল। মেয়েদেরও ট্রেকারের ছাদে যেতে হত। বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারের সময় আমরা বিমান ঘোষকে আমাদের সমস্যার কথা জানিয়েছিলাম। সরকার পরিবর্তন হল বলে এটা হল। আমার ৭৩-৭৪ বছর বয়স। জীবদ্দশায় ফের বাস চালু হওয়ায় খুশি হলাম।” উত্তরণ দোলুই নামে আর এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “১৪ বছর বাস পরিষেবা বন্ধ ছিল। মানুষের খুব কষ্ট হত। ট্রেকারের ছাদে যেতে হত। বিধায়কের উদ্যোগে এই পরিষেবা চালু হওয়ায় আমরা খুশি। তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।”
বিধায়কের প্রশংসা করে বাস সংগঠনের তরফে মুন্সী মহম্মদ মুসা বলেন, “আগে ৭ খানা ট্রেকার চলত। আচমকা ২৬ খানা ট্রেকার হয়ে যায়। ওদের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে বাস বন্ধ হয়ে যায়। এখন আমরা খুবই খুশি। আপাতত ২০-৩০ মিনিট অন্তর পরিষেবা দেওয়া হবে।” ট্রেকার মালিকরা বাস পরিষেবা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।