
হুগলি: হুগলির সিঙ্গুরের ঐতিহাসিক ‘সিঙ্গুর তাপসী মালিক কৃষক বাজার’-এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হল শুধু ‘সিঙ্গুর কৃষক বাজার’। ২০১৪ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুর আন্দোলনের শহিদ তাপসী মালিকের স্মরণে এই নাম রেখেছিলেন। সম্প্রতি নীল-সাদা বোর্ড বদলে লাল-সাদা রঙে নতুন নাম লেখা হয়েছে।
এই নাম পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এলাকার বিজেপি বিধায়ক অরূপ কুমার দাসের দাবি, “সময়ের সঙ্গে মানুষের চাহিদা পূরণের জন্যই এই পরিবর্তন এবং সিঙ্গুরের মানুষ এর প্রতিবাদ করেননি। পরিবর্তন সরকার করে। ফলও সরকারও ভোগ করে। সিঙ্গুর আন্দোলনে উন্নয়নের বদলে অবনমন হয়েছে এখানকার মানুষের। তাই এখন আর মানুষ বদল চেয়েছে” তাঁর বক্তব্য, সিঙ্গুর আন্দোলন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কেরিয়ারকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তাতে সাধারণ মানুষের ক্ষতিই হয়েছে।
অন্যদিকে, তাপস মালিকের বাবা মনোরঞ্জন মালিকের বক্তব্য, “এখন রাজ্যে সব কিছুতেই বদল এসেছে। মেনে নিতে হবে।” তবে মেয়ের নাম মুছে যাওয়ায় ব্যথিত তিনি। এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রাক্তন বিধায়ক বেচারাম মান্নাকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া মেলেনি। শহিদ স্মৃতির এই নাম বদল ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা।
২০০৬ সালে বামফ্রন্ট সরকার টাটা মোটরসের ‘ন্যানো’ গাড়ি কারখানার জন্য সিঙ্গুরের কৃষিজমি জোরপূর্বক অধিগ্রহণ করলে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘কৃষিজমি রক্ষা কমিটি’ আন্দোলন শুরু হয়। ২০০৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর টাটার প্রস্তাবিত কারখানার জমি থেকে তাপসী মালিকের অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। তা নিয়ে উত্তাল হয় রাজ্য রাজনীতি। মমতার দীর্ঘ আন্দোলনের জেরে ২০০৮ সালে টাটা গোষ্ঠী সিঙ্গুর থেকে বিদায় নেয়। পরবর্তী এই আন্দোলনকে বুনিয়াদ করে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা। শহিদ তাপসী মালিকের শ্রদ্ধার্ঘ্যে সিঙ্গুর বাজারের নাম রাখা হয় তাঁর নামে।