
হাওড়া: কাঁধে একটা বড় ব্যাগ। সেই ব্যাগ নিয়ে ইতস্তত ঘোরাঘুরি করছিলেন এক যুবক। তাঁকে দেখেই সন্দেহ হয় আরপিএফ জওয়ানদের। তারপরই তাঁরা ওই যুবকের ব্যাগে তল্লাশি চালান। আর তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ। ব্যাগের মধ্যে থরে থরে সাজানো রুপোর থালা, বাটি, প্রদীপ। সবমিলিয়ে রুপোর ওই সব সামগ্রীর ওজন প্রায় সাড়ে ১০ কোজি। যার বাজারমূল্য ২৩ লক্ষ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা। ওই রুপোর জিনিসপত্রের কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেননি ওই যুবক। তারপরই তাঁকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া রুপোর জিনিসপত্র এবং আটক যাত্রীকে আয়কর বিভাগের হাতে তুলে দেয় আরপিএফ।
আরপিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল বিবেক কুমার সাউ নামে বছর আঠাশের ওই যাত্রী হাওড়া স্টেশনের পুরনো ডিআরএম বিল্ডিংয়ের সামনে আসেন। তাঁর বাড়ি ঝাড়খণ্ডের রাঁচীতে। হাওড়া-রাঁচী ক্রিয়াযোগা এক্সপ্রেসে চেপে তাঁর ঝাড়খণ্ডে যাওয়ার কথা ছিল। সেই সময় কর্তব্যরত আরপিএফ জওয়ানদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁর ব্যাগে তল্লাশি চালানো হয়। ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে আসে বিপুল পরিমাণ রুপোর সামগ্রী।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে রুপোর থালা, বাটি, মগ, প্রদীপ, ঘর সাজানোর নানা জিনিস এবং প্রচুর কয়েন। সব মিলিয়ে রুপোর ওজন প্রায় সাড়ে ১০ কেজি। এত বিপুল পরিমাণ রুপোর জিনিস কোথা থেকে এল, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্নের যথাযথ উত্তর ওই যাত্রী দিতে পারেননি। এর পরই উদ্ধার হওয়া সমস্ত রুপো বাজেয়াপ্ত করে আয়কর বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আটক যাত্রীকেও আয়কর বিভাগের আধিকারিকদের হাতে তুলে দিয়েছে আরপিএফ। কোথা থেকে ওই রুপো আনা হয়েছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, হাওড়া স্টেশনে এর আগেও একাধিকবার বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা-রুপোর সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে প্রায় ২১ লক্ষ টাকা নগদ এবং ৩০.১৮ গ্রাম সোনার সামগ্রী উদ্ধার হয়েছিল। বৈধ নথি দেখাতে না পারায় তাঁকেও আটক করে আয়কর দফতরকে খবর দেয় আরপিএফ। এ ছাড়া, গত সেপ্টেম্বরেই হাওড়া স্টেশনে এক যাত্রীর কাছ থেকে প্রায় ৬৭ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়। অক্টোবরের শুরুতে ফের এক যাত্রীর ব্যাগ থেকে ৪৪ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে আরপিএফ।
বারবার এ ধরনের বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় হাওড়া স্টেশনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস এবং পরিবহণের উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।