
হাওড়া: খবর ছিলি কামাখ্যা-পুরী এক্সপ্রেসেই ফিরছেন। কামাখ্যা থেকেই ফেরার কথা ছিল। দুঁদে কর্তাদের কাছে সে খবর আগেই পৌঁছে গিয়েছিল। ওঁত পেতে ছিলেন তাঁরা। কালীপুজোর সকালে হাওড়া স্টেশনে কামাখ্যা পুরী এক্সপ্রেস ঢুকতেই তৎপরতা। একেবারে কামরা খুঁজে বার করা হল চন্দ্রশেখর। এরপর শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। কথায় অসঙ্গতি থাকায় শুরু তল্লাশি। তারপর তাঁর ব্যাগ থেকে যা বেরল, তাতে তাজ্জব বনে গেলেন বাকি যাত্রীরা। চোখ রীতিমতো ধাঁধিয়ে গেল আধিকারিকদেরও। অভিযান চালিয়ে ২ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনা বাজেয়াপ্ত করল পূর্ব রেলের রেলওয়ে সুরক্ষা বল (RPF)। ‘অপারেশন সতর্ক’-এর অধীনে চালানো এই বিশেষ অভিযানে এক পাচারকারীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আরপিএফ-এর অপরাধ গোয়েন্দা শাখা (CIB) কামাখ্যা-পুরী এক্সপ্রেসে তল্লাশি অভিযান চালায়। সেই সময় সন্দেহভাজন এক যাত্রীকে আটক করে তাঁর ব্যাগে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় ১.৭৪২ কেজি ওজনের সোনা। বাজেয়াপ্ত এই বিপুল পরিমাণ সোনার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৫৪ লক্ষ ৬৪ হাজার ৫৫৬ টাকা।
ধৃত ব্যক্তির নাম কে. চন্দ্রশেখর দাস (৩৬)। তিনি ওড়িশার গঞ্জাম জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া সোনার কেনাবেচা কিংবা পরিবহণ সংক্রান্ত উপযুক্ত ও বৈধ কোনো নথি তিনি দেখাতে পারেননি।
তল্লাশি চলাকালীন উদ্ধার হওয়া সোনার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করেছেন আধিকারিকরা। ধৃত পাচারকারী এবং বাজেয়াপ্ত বিপুল পরিমাণ সোনা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও বিশদ তদন্তের জন্য কলকাতা কাস্টমস বিভাগের আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই আন্তঃরাজ্য সোনা পাচার চক্রের পেছনে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।