
হাওড়া: বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই গা ঢাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু, শেষ রক্ষা হল না। হাওড়া সিটি পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ হাওড়া সদর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি কৈলাস মিশ্র। বিহারে গা ঢাকা দিয়েছিলেন কৈলাস। তোলাবাজি, মারধর-সহ একাধিক অভিযোগে পড়শি রাজ্য থেকে তাঁকে শনিবার গ্রেফতার করা হয়েছে।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বালি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন কৈলাস। বিজেপির সঞ্জয় কুমার সিংয়ের কাছে প্রায় ১২ হাজার ভোটে পরাজিত হন তিনি। গত ৪ মে ফল ঘোষণার পরই গা ঢাকা দেন। এদিন হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দাদের একটি দল বিহারের মধুবনী জেলায় কৈলাসের এক আত্মীয়র বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে। হাওড়া সিটি পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কৈলাসের ওই আত্মীয়ের বাড়িতে হানা দিয়েছিল।
হাওড়া সদরের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন কৈলাস। অভিষেকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি।তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মারধর, সরকারি কাজে বাধা, হুমকি সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় পুলিশ মামলা শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার কৈলাসকে বিহারের আদালতে তোলা হবে। তারপর ট্রানজিট রিমান্ডে সোমবার হাওড়ায় নিয়ে আসা হবে।
বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল নেতাদের একের পর এক ‘কীর্তি’ সামনে আসছে। কারও বাড়ি থেকে, কারও পাটখেত থেকে টাকা উদ্ধার হয়েছে। তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশ গ্রেফতার করছে তৃণমূল নেতাদের। তৃণমূলের নেতাদের সম্পত্তির পরিমাণ জেনে চোখ কপালে উঠছে সাধারণ মানুষের। হাওড়া সদরের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা কৈলাসও গা ঢাকা দিয়েছিলেন। তাঁকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের কী কী তথ্য সামনে আসে, সেটাই এখন দেখার।
এদিকে, এদিন মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একটি জমি কেলেঙ্কারির মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সুজয় হাজরাকে গ্রেফতার করে শালবনী থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর শনিবার পালানোর চেষ্টা করছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন এই বিধায়ক। তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল পুলিশ। শনিবার খড়্গপুর স্টেশন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে শালবনী থানার পুলিশ।