
হাওড়া: রাজ্যের বিভিন্ন রাস্তা, মেট্রো স্টেশনের নাম পরিবর্তন নিয়ে চর্চা চলছে। মহানায়ক উত্তম কুমার বা নেতাজির নামাঙ্কিত মেট্রো স্টেশনের নাম বদলের প্রস্তাব দিতে চলেছেন তথাগত রায়। এরই মধ্যে হাওড়ার একটি স্টেশনের নাম বদলের প্রস্তাব জমা পড়ল রাষ্ট্রপতির কাছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের দফতরেও ওই স্টেশনের নাম বদলের দাবি জানিয়েছে অখিলভারত হিন্দুমহাসভার পশ্চিমবঙ্গ শাখা।
হাওড়া জেলার দেউলটি স্টেশনের কাছে রূপনারায়ণ নদীর তীরে জীবনের একটি দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বহু সাহিত্য রচনা ওই রূপনারায়ণের পাড়েই। শরৎচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত সেই দেউলটি স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নামানুসারে করার জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে দাবি জানানো হয়েছে মঙ্গলবার।
সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে দিল্লিতে ডেপুটেশন জমা দিয়েছেন হিন্দুমহাসভার রাজ্য কমিটির সদস্যরা। চন্দ্রচূড় গোস্বামীর বক্তব্য, সমাজের মিথ্যা নীতি নৈতিকতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবতাই যে মানুষের একমাত্র পরিচয় সে কথা সাহিত্যের মাধ্যমে বার বার তুলে ধরেছিলেন শরৎচন্দ্র। নিপীড়িত মানুষের কথাও রয়েছে তাঁর সাহিত্যে। তাই তাঁর নামে স্টেশন চাইছে এই সংগঠন।
জানা যায়, দেউলটি স্টেশন থেকে কিছু দূরে অবস্থিত ওই বাড়িটিতে প্রায় ১২ বছর বসবাস করেছিলেন শরৎচন্দ্র। ‘দেনা-পাওনা’, ‘বিপ্রদাস’, ‘শেষ প্রশ্ন’-এর মতো উপন্যাস, গল্পের অনেকটাই লিখেছিলেন এই বাড়িতে বসে। বর্তমানে বাড়িটি সংরক্ষণ করা রয়েছে। রয়েছে সাহিত্যিকের ব্যবহার করা আসবাবও।