
হাওড়া: এই প্রথম বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট পেলেন তিনি। আর টিকিট পেয়েই নামলেন না প্রচারে। বরং দিলেন বালি পুরসভার আধিকারিক ও সেচ দফতরের কর্মীদের ধমক! কিন্তু তাঁর ভূমিকায় খুশি এলাকার মানুষ। তিনি কৈলাশ মিশ্র। তাঁকে এবার বালি বিধানসভা কেন্দ্রে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। টিকিট পেয়েই তিনি নামলেন জঞ্জাল পরিষ্কারে। বালি এলাকায় দীর্ঘদিনের সমস্যা নিকাশি। নিকাশি ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ। আর তার কারণ জঞ্জাল। নর্দমা ভর্তি জঞ্জাল। মানুষের কাছে ভোট চাওয়ার আগে এলাকার সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছেন তিনি। দাবি একটাই।
হাওড়া এবং বালি পুরসভায় ভোট হয়নি দীর্ঘদিন। পুরপরিষেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ মানুষ। এই কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক রানা চট্টোপাধ্যায় একাধিকবার বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন। জল নিকাশী ও জঞ্জাল পরিষ্কারের সমস্যার সমাধানে বারবার রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন বাসিন্দারা। এবার এই কেন্দ্র থেকে রানাকে সরিয়ে শিবপুর কেন্দ্রে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। নতুন প্রার্থী করা হয়েছে কৈলাশ মিশ্রাকে। হাওড়া সদরের তৃণমূল যুব সভাপতি কৈলাশ।
প্রার্থী হওয়ার পর প্রচারের নামেননি তিনি। বালিকে জঞ্জালমুক্ত করতে ও নিকাশীর সমস্যার সমাধানের সকাল থেকে এলাকায় ঘুরে দেখেন। লিলুয়া এলাকায় গিয়ে বালি পুরসভার আধিকারিক ও সেচ দফতরের কর্মীদের ফোনে কার্যত ধমক দিয়ে বলেন অবিলম্বে সমস্যার সমাধান করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ আছে, বালির মানুষ যেন দুর্ভোগে না থাকে। এরপর পুরসভা তড়িঘড়ি জঞ্জাল অপসারণের কাজ শুরু করে। কৈলাশ মিশ্র আশ্বাস দেন, বালির সমস্যার সমাধান করবেন।
কৈলাশ মিত্র আগে ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এককালে সোনালি গুহর ঘনিষ্ঠ হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। তাঁরই হাত ধরেই কলকাতা ছেড়ে কৈলাশের লিলুয়ায় আসা। এবারে রানা চট্টোপাধ্যায়কে বালিতে টিকিট দেওয়া হয়নি। এলাকায় কান পাতলে শোনা যায়, এলাকায় একাধিক সমস্যা ছিল। আর সেই কারণেই রানার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিল বাসিন্দাদের। সেখানকার রাজনৈতিক কুশলীরাই বলছেন, রানার সঙ্গে কৈলাশের অম্ল মধুর সম্পর্ক। রানাকে সরিয়ে এবার বালিতে নতুন মুখ আনতে চায় তৃণমূল। এদিন কৈলাশ বললেন, “আগে কাজ করব, তারপর মানুষের কাছে ভোট চাইতে যাব।”