
হাওড়া: সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চমকে উঠেছেন সবাই। আশপাশে লোকজন থাকা অবস্থায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন। উত্তর হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটারকে খুনে শোরগোল পড়লেও এখনও অধরা মূল অভিযুক্ত হারুন খান ও রোহিত হোসেন। পিলখানাকাণ্ডের তদন্তভার ইতিমধ্যে সিআইডি নিয়েছে। শনিবার ডিআইজি (সিআইডি) ইন্দ্র চক্রবর্তী-সহ অন্য আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি পরিবারের লোকজন ও এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। এদিকে, খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
নিহত প্রোমোটার শফিক খানের দাদা জাহির খান এদিন বলেন, সিআইডি তদন্ত তাঁরা দাবী করেছিলেন। সেই তদন্ত শুরু হওয়ায় তাঁরা খুশি। মূল অভিযুক্তরা ধরা পড়বে বলে আশাবাদী তিনি। ডিআইজি (সিআইডি) বলেন, তদন্ত শুরু হয়েছে। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, প্রোমোটার খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। গতকাল রাতে ধৃত মহম্মদ ওয়াকিলের বউবাজারের বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার হয় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দুই রাউন্ড গুলি। পুলিশ হেফাজতে থাকা ধৃত তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রোমোটার শফিক খানকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যার পর মূল দুই আততায়ী হারুন খান এবং রোহিত হোসেন আশ্রয় নেয় কলকাতার বউবাজারের মহম্মদ ওয়াকিলের বাড়িতে। সেখানেই তারা মহম্মদ ওয়াকিলের বাড়িতে ওই দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দুই রাউন্ড গুলি জলের ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রাখে। এদিকে, এদিন পিলখানাকাণ্ডে মহম্মদ আসলাম নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হল। আসলাম মেটিয়াব্রুজে হারুন ও রোহিতকে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করেছিল।
মূল অভিযুক্ত হারুন খানের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বাড়ছে। হাওড়া উত্তরের বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর সঙ্গে হারুনের একাধিক ছবি সামনে এসেছে। তবে তৃণমূল বিধায়ক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, হারুনকে জানলেও ঘনিষ্ঠতা ছিল না। এই নিয়ে শাসকদলকে বিঁধেছে বিজেপি। তৃণমূলের সহযোগিতাতেই অভিযুক্তরা অধরা কি না, সেই প্রশ্ন তুলছে। সূত্রের খবর, অন্য রাজ্যে চম্পট দিয়েছে দুই মূল অভিযুক্ত।