Suvendu Adhikari: ‘পাতালের ভিতরে থাকলেও খুঁড়ে বের করে গ্রেফতার করতে হবে’, মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

Bagnan BJP worker murder: মৃত বিজেপি কর্মীর বড় মেয়ে রিম্পা দে বলেন, "আমি বড় মেয়ে। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে একটা চাকরি দিয়েছেন। সেটা অস্থায়ী। ঠাকুমা-দাদুর চিকিৎসার জন্য আয়ুষ্মান ভারতের ব্যবস্থা করে দেবেন। আর আমার মায়ের হাতে ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।" অন্য এক মেয়ে বলেন, "আতঙ্কে রয়েছি। নৃশংস খুনিরা যতক্ষণ না ধরা পড়ছে, যতক্ষণ না ফাঁসির দড়িতে ঝুলছে, ততক্ষণ কোনও মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, তদন্ত চলবে। বিচারকার্য এগোবে। এবং দোষীদের শাস্তি হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।"

Suvendu Adhikari: পাতালের ভিতরে থাকলেও খুঁড়ে বের করে গ্রেফতার করতে হবে, মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
শনিবার বাগনানে মৃত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Jun 27, 2026 | 7:56 PM

বাগনান: বাগনানে বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠার পরই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। আর শনিবার মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিলেন, কোনও অভিযুক্তকে ছাড়া হবে না। এদিন মৃতের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করার পর পুলিশকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, ‘বাকি অভিযুক্তরা পাতালের ভিতরে থাকলেও খুঁড়ে বের করে গ্রেফতার করতে হবে।’ মৃতের পরিবারের হাতে এদিন ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য তুলে দেন শুভেন্দু। বিডিও অফিসে অস্থায়ী চাকরি দেওয়া হল মৃতের বড় মেয়েকে। মৃতের পরিজনরা জানালেন, অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।    

গত ১৭ জুন হাওড়ার বাগনানে বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে খুন হন। বিধানভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই এলাকাছাড়া ছিলেন বাগনানের আন্টিলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান শেখ মফিজুল ইলাম। গত ১৭ জুন মফিজুলের বাড়ির সামনে বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মী জড়ো হন। কাটমানি ফেরতের দাবিতে জানিয়ে উপপ্রধানের বাড়ি ঘেরাও করা হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, মফিজুল এবং তাঁর দলবদল বিজেপি কর্মীদের উপর চড়াও হন। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি চলে। সেই ঘটনায় গুরুতর জখম হন কয়েক জন। তাঁদের হাপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে প্রশান্তকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎকেরা।

এই ঘটনার পর নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, “দুর্নীতিগ্রস্তদের রেয়াত করা হবে না। আমরা ব্যবস্থা নেব। আপনাদের আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। আপনাদের কারও বাড়ি যাওয়ার প্রয়োজন নেই। পুলিশের উপর আস্থা রাখুন। যেটা পুলিশ পারবে না, সেখানে সিআইডি কাজ করবে।” বাগনানের ঘটনার পর কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। সিআইডির হাতে তদন্তভার যায়। মৃতের পরিবারকে জেলা প্রশাসন ৪ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা করে।

এরপর এদিন মৃত বিজেপি কর্মীর পরিজনদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মৃতের স্ত্রীকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করেন। মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর শুভেন্দু বলেন, “জেলাশাসককে ধন্যবাদ জানাই, জেলার বিপর্যয় তহবিল থেকে প্রথমে ৪ লক্ষ টাকা পরিবারকে সাহায্য করেছিলেন। এবার আমি মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে আরও ৫ লক্ষ টাকা দিলাম। ওঁর বছর বাইশের বড় মেয়েকে আমরা নিয়ম মেনে বিডিও অফিসে চুক্তিভিত্তিক চাকরি দিলাম।”

অভিযুক্তদের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর-

অভিযুক্তদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি পুরো বিষয়টা পর্যালোচনা করছি। আমাকে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মোট ৫১ জনের নামে এফআইআর হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি, বাকি ৪১ জন যেখানেই থাকুক, পাতালের ভিতরে থাকলেও খুঁড়ে বের করে গ্রেফতার করতে হবে। প্রমাণ রয়েছে। তাদের প্রত্যেককে সিআইডি গ্রেফতার করবে। পরিষ্কার বার্তা ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, হেফাজতে থাকাকালীনই চার্জশিট পেশ করতে হবে। এবং কাস্টডি ট্রায়াল যাতে শুরু করা যায়, সেই ব্যবস্থাও করতে হবে। এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতাতে যে সব শাস্তির বিধান রয়েছে, সেটা দেওয়া হবে। পুলিশমন্ত্রীর পাশাপাশি আইনও আমি দেখি। চার্জশিট দিয়ে দিলে আমি স্পেশাল পিপি-ও নিয়োগ করব। যাতে কম সময়ের মধ্যে চার্জশিটে তদন্তকারী অফিসার যে শাস্তির সুপারিশ করবে, সেই শাস্তি যাতে পায়, তা নজরদারি করব।” দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

কী বলছে মৃতের পরিবার?

মৃত বিজেপি কর্মীর বড় মেয়ে রিম্পা দে বলেন, “আমি বড় মেয়ে। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে একটা চাকরি দিয়েছেন। সেটা অস্থায়ী। ঠাকুমা-দাদুর চিকিৎসার জন্য আয়ুষ্মান ভারতের ব্যবস্থা করে দেবেন। আর আমার মায়ের হাতে ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।” অন্য এক মেয়ে বলেন, “আতঙ্কে রয়েছি। নৃশংস খুনিরা যতক্ষণ না ধরা পড়ছে, যতক্ষণ না ফাঁসির দড়িতে ঝুলছে, ততক্ষণ কোনও মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, তদন্ত চলবে। বিচারকার্য এগোবে। এবং দোষীদের শাস্তি হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।” প্রশান্ত দের স্ত্রী বলেন, “আমরা দোষীদের ফাঁসি চাই। সিআইডি তদন্তে আমরা খুশি। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, সবাই ধরা পড়বে।”

অন্যদিকে, মহরম পালন নিয়ে এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মহরম যাঁরা পালন করেছেন তাঁদের ধন্যবাদ । অস্ত্রের আস্ফালন দেখা যায়নি। পুলিশকেও ধন্যবাদ। আগে আইনের শাসন ছিল না। তাই এখন আইন মেনে সবটা হচ্ছে।”

Follow Us