
হাওড়া: বাড়ির তলায় গোপন সুড়ঙ্গ। সুড়ঙ্গ পেরলেই ‘সিংহদুয়ার’। নেমপ্লেটে লেখা শামিম আহমেদের (Shamim Ahmed) নাম। দরজা খুললেই ভিতরে এলাহি ব্যবস্থা। গোটা বাড়ির সিসিটিভি মনিটরিং চলছে ওই ঘর থেকে। হাওড়ার তৃণমূল (TMC) নেতা শামিম আহমেদের সেই বাড়ির ছবি ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। হামলার ঘটনায় তল্লাশি চালাতে গিয়ে শামিমের গোপন ঘরের খোঁজ পায় পুলিশ। এত বিলাসবহুল আসবাব এল কোথা থেকে! কে এই শামিম আহমেদ?
মধ্য হাওড়ায় কান পাতলে শোনা যায়, শামিম আহমেদ প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। একসময় শপিংমলে সামান্য কর্মচারীর চাকরি করা শামিম আজ দাপুটে তৃণমূল নেতা। মধ্য হাওড়ার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলরের স্বামী তিনি। মধ্য হাওড়া বিধানসভার সংখ্যালঘু এলাকায় কেউ কেউ তাঁকে বলেন ‘ডন’।
মধ্য হাওড়ার শিবপুর থানার অন্তর্গত ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেতাজ বাদশা শামিম আহমেদ ওরফে বড়ে। তৃণমূলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন থেকে ওই এলাকায় দাপট চালিয়ে এসেছেন মধ্য হাওড়ার প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায় ঘনিষ্ঠ বড়ে। ভোটের ফল ঘোষণার পর চওড়া বস্তি এলাকা অশান্ত হয়। বোমাবাজি ও গুলি চালানোর ঘটনার অভিযোগ ওঠে এই বড়ে ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে।
বিজেপির অভিযোগ, বড়ের মদতে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের উপর। মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয় মধ্য হাওড়ার বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে কিন্তু ঘটনার মাস্টাররমাইন্ড বড়ে ঘটনার পর থেকেই ফেরার।
এই প্রথমবার শামিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল, তা নয়। আগেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। রামনবমীর শোভাযাত্রায় হামলা চালানোর অভিযোগে যখন এনআইএ তদন্তভার নিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল এই বড়েকে। যদিও এই অভিযানের ভাইরাল ভিডিয়ো সম্পর্কে হাওড়া সিটি পুলিশের কর্তারা কিছু জানাতে চাননি।