
হাওড়া: রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। নতুন সরকার আর নবান্ন থেকে পরিচালনা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বসবেন মহাকরণে। রাজ্যের সচিবালয় ফের মহাকরণে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে কী বলছেন নবান্নের আশপাশের বাসিন্দারা? এতে কি তাঁদের সুবিধা হল? হাওড়ার শিবপুর এলাকায় ঢুঁ মারতেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেল। কেউ বলছেন, “বন্দী অবস্থা থেকে মুক্তি পেলাম।” আবার কেউ কেউ এলাকায় নিরাপত্তা কমার আশঙ্কা করছেন।
২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে মহাকরণেই বসতেন। তারপর ২০১৩ সালে রাজ্যের সচিবালয় গঙ্গার ওপারে চলে যায়। নবান্ন থেকে রাজ্য পরিচালনা শুরু করেন মমতা। তবে ক্ষমতায় এসে বিজেপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবার মুখ্যমন্ত্রী মহাকরণে বসবেন।
শিবপুরের বাসিন্দারা কী বলছেন?
রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতর ফের মহাকরণে ফিরে যাওয়ার খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন শিবপুরের বাসিন্দাদের অনেকে। তাঁদের বক্তব্য, নবান্নকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, ব্যারিকেড ও যান নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরেই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছিল সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, “ভিভিআইপি যাতায়াতের কারণে প্রায়ই রাস্তা বন্ধ থাকত। স্কুলপড়ুয়া থেকে অফিসযাত্রী, সকলকেই সমস্যায় পড়তে হত। শিবপুরে নবান্ন রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতর হওয়ার পর থেকে এলাকা যেন বন্দি হয়ে গিয়েছিল। এবার মনে হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন ফিরবে।”
নিরাপত্তার কারণে বহু এলাকায় ছাদে ওঠা, গাড়ি রাখা এমনকি রাতের পর যান চলাচলেও বিধিনিষেধ ছিল বলে অভিযোগ। ফলে প্রশাসনিক সদর দফতর সরে যাওয়ার খবরে খুশি ব্যবসায়ী, টোটোচালক থেকে গৃহবধূরাও।স্থানীয়দের আশা, এবার ব্যারিকেড সরবে, যান চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং বহুদিন পর শিবপুর ফিরে পাবে তার চেনা ছন্দ। পাশাপাশি বেশ কিছু প্রতিবেশী নবান্ন সরে যাওয়ায় নিরাপত্তার কমে যাওয়ার কথাও জানান। অনেকেরই দাবি, প্রশাসনিক ভবন নবান্ন থেকে সরে গেলেও সেখানে যেন কোনও সরকারি দফতর থাকে যাতে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা থেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে।
এদিকে, রাজ্যে পালাবদলের পর সোমবার নবান্নে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সন্ধেয় দেখা গেল, নবান্নকে গেরুয়া আলোয় সাজানো হয়েছে। বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক আগামী শুক্রবার নবান্নেই হবে বলে জানা গিয়েছে।