
হাওড়া: নবান্নের (Nabanna) অদূরেই রহস্যমৃত্যু যুবকের। রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর থেকে মাত্র ১৫০ মিটার দূরে উদ্ধার হল এক যুবকের রক্তাক্ত দেহ। দু’টি বহুতলের মাঝের রাস্তায় পড়েছিল যুবকের দেহ। পুলিশ সূত্রে খবর, মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ছিল একাধিক লোহার পেরেক। এই ঘটনায় রবিবার সকালে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল হাওড়ার শরৎ চ্যাটার্জি রোড এলাকায়। যুবককে (Nabanna Youth Death) খুন করা হয়েছে, নাকি কোনওভাবে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ।
মৃত যুবকের নাম অঞ্জন চক্রবর্তী (৩৫)। এলাকায় তিনি ছোটকা নামেই পরিচিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন অঞ্জন। রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ শরৎ চ্যাটার্জি রোডের দু’টি বহুতল বাড়ির মাঝখানের রাস্তায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যুবকের মাথা থেকে প্রচুর রক্ত বের হচ্ছিল। মাথায় আঘাতের চিহ্নও ছিল। তাঁর পাশেই পড়েছিল একাধিক লোহার পেরেক। এই দৃশ্য দেখেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
খবর দেওয়া হয় চ্যাটার্জিহাট থানায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। যুবকের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু কীভাবে মৃত্যু হল ওই যুবকের? মাথায় আঘাতই বা লাগল কীভাবে? ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা লোহার পেরেকের সঙ্গে মৃত্যুর কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই যুবক নেশা করত। সেক্ষেত্রে, কোনওভাবে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত লেগে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে খুনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
ইতিমধ্যেই চ্যাটার্জিহাট থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। নবান্নের এত কাছে প্রকাশ্য রাস্তায় যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।