
জলপাইগুড়ি: রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চা বাগানগুলির মধ্যে পুজোর আগেই ১০ থেকে ১২টি বাগান খুলে যেতে পারে। সোমবার জলপাইগুড়ি জেলা শাসকের দফতরে সিকিমের টানেল দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা ও চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন ডুয়ার্সের বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকরা।
কী বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী?
গত কয়েক বছরে বহু চা বাগান বন্ধ হয়েছে। আর সেই চা বাগানেরই শ্রমিকরা কাজের জন্য ভিন রাজ্য যাচ্ছেন। এই নিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আর যেতে হবে না। প্রধানমন্ত্রীর চা শ্রমিক যোজনাতে আমরা ঢুকে গিয়েছি। ৩৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনাতে বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকরা সমস্ত আর্থিক সাহায্য় পাবেন।” এরপরই শুভেন্দু বলেন, “আর যে ২৫টি বাগান বন্ধ রয়েছে, ইতিমধ্যে শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং এবং এখানকার টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ব্যবস্থা নিয়েছেন। আমরা আশা করছি, আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে ১০-১২টি চা বাগান খুলে যেতে পারে।” এর সঙ্গে উত্তরবঙ্গে অনেকগুলো শিল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী জানান।
মুখ্যমন্ত্রীর আশা, বাগানগুলি চালু হলে ভিনরাজ্যে কাজের খোঁজে যাওয়ার প্রবণতাও কমবে। মুখ্যমন্ত্রী পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শুধু চা বাগানই নয়, নতুন শিল্প গড়ে তোলার দিকেও সরকার জোর দিচ্ছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন ডুয়ার্সের বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকরা। রেড ব্যাঙ্ক, নিউ ডুয়ার্স, কিলকোট-সহ একাধিক বন্ধ বাগানের শ্রমিকদের আশা, পুজোর আগেই যদি বাগানগুলি খুলে যায়, তবে বহু পরিবারে আবার জীবিকা ফিরবে। ভিন রাজ্যে কাজের সন্ধানে যেতে হবে না, পরিবারের সঙ্গে উৎসব কাটানোর সুযোগ মিলবে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও আর অন্য রাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না বলে মনে করছেন তাঁরা।