
খড়্গপুর: খড়গপুর শহরে স্কুলছাত্র অক্ষয় ঝায়ের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, এটি কোনও গ্যাং ওয়ার বা হামলার ঘটনা নয়, বরং বন্ধুর বাবার বন্দুক নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় অসাবধানতাবশত গুলি চলে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্র অক্ষয় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার প্লট পুরোটাই ভিন্ন
বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানান, বুধবার সকালে প্রতিবেশী বন্ধু সাগরের বাড়িতে গিয়েছিল অক্ষয়। সেখানে সাগরের বাবা ভেঙ্কট রাওয়ের ৯ এমএম পিস্তল নিয়ে নাড়াচাড়া করছিল তারা। সাগরের হাত থেকে বন্দুকটি নিয়ে দেখার সময় অসাবধানতাবশত ট্রিগার চেপে ফেলে অক্ষয়। প্রথমে একটি ‘ফল্স ফায়ারিং’ হলেও, পরপরই একটি গুলি সোজা অক্ষয়ের বুকের বাঁ দিকে এসে লাগে।
ঘটনা ঘটার পরই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন ওঁরা। অক্ষয় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সাগর ভয় পেয়ে তাঁর বন্ধুদের ফোন করে ডাকেন। তার পর তাঁরাই অক্ষয়কে হাসপাতালে নিয়ে যান। আর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে গল্প ফাঁদের তাঁরা। তাঁরা গল্প ফাঁদেন, স্কুলের টিফিন খেতে বেরিয়ে দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলিতে বিদ্ধ হন অক্ষয়। কিন্তু নবম শ্রেণির এক ছাত্রের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় উঠে আসে একাধিক প্রশ্ন। আদৌ ওই ছাত্রের ওপর কারোর কোনও আক্রোশ ছিল কি? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে পুলিশ অক্ষয়ের বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন জেরায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। চেপে ধরতেই উঠে আসে আসল সত্যিটা।
সাগরের বাড়ি থেকে ইতিমধ্যেই রক্তমাখা জামাকাপড় ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ অক্ষয়ের বন্ধু সাগর কুমার-সহ মোট তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত বাকি দুজন কোলা যোগেশ্বর রাও এবং বিশাল জানা।
ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকার বাসিন্দা ২২-২৩ বছর বয়সী এই যুবকদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্রটি ছাড়াও ৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা ও অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত আরও একজনের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এসপি বলেন, ‘‘এটি কোন গ্যাং ওয়ার নয়, খড়্গপুর শহরে আর সেই দিন ফিরে আসবে না। কোনও ভাবে সাধারণ মানুষের পথচলায় বিঘ্ন ঘটতে দেব না।