
বিনপুর: ভোটের মুখে পানীয় জলের দাবিতে সরব হয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। প্রশাসনের টনক নড়াতে ভোট বয়কটের পাশাপাশি রাজ্য সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিতেই কাজ হল একেবারে ম্যাজিকের মতো। বিনপুর ২ ব্লকের ভেলাইডিহা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁকরা গ্রামে রাতের অন্ধকার কাটতে না কাটতেই পৌঁছে গেল পানীয় জল।
গ্রামে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ পরিবারের বসবাস। গ্রামটি মূলত পাথুরে এলাকায় হওয়ায় গ্রীষ্মের শুরু থেকেই জলের স্তর অনেকটাই নিচে নেমে যায়। দেখা দেয় তীব্র জল সঙ্কট। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এলাকায় পঞ্চায়েতের তৈরি করা বেশ কয়েকটি টিউবওয়েল থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলি এখন অকেজো। একটি টিউবওয়েল স্কুলের ভিতরে থাকলেও তা সাধারণের ব্যবহারের অনুমতি নেই। একটি টিউবওয়েল সম্পূর্ণ বিকল। নষ্ট হয়ে গিয়েছে পাইপ।
অন্য একটি টিউবওয়েল থেকে জল বের হলেও তা খাওয়ার অযোগ্য। এখন ফলে কয়েকশো মানুষের ভরসা ছিল একটি মাত্র কল। কিন্তু সেখান থেকেও সময়মতো জল মিলত না। ফলে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল বেশ কিছুদিন থেকেই। দেওয়া হয় চরম হুঁশিয়ারি। এরই মধ্যে পঞ্চায়েতের সহযোগিতায় গ্রামে জল পৌঁছে দিল পিএইচই দফতর।
বিরোধীদের দাবি, শাসকদল তৃণমূল এলাকায় উন্নয়নের পরিবর্তে কেবল দুর্নীতি আর কাটমানি নিয়ে ব্যস্ত ছিল। এখন ভোট হাত ছাড়া হওয়ার ভয়েই তড়িঘড়ি জল পাঠানো হচ্ছে। সুর চড়িয়েছেন সিপিআইএম প্রার্থী রবি সিং সর্দার, বিজেপির জেলা যুব সভাপতি রঞ্জিত সেন।
অন্যদিকে, বিনপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বিমল মুর্মু বলছেন, “গ্রীষ্মকালে এই পাথুরে এলাকায় জলের স্তর অনেকটা নিচে নেমে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়। আমরা সাধ্যমতো তা মেটাবার চেষ্টা করি।” আপাতত গ্রামে পানীয় জল পৌঁছানোয় ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হলেও গ্রামবাসীরা কিন্তু হুঁশিয়ারি বজায় রেখেছেন। তাঁদের সাফ কথা, ভোটের মুখে আজ জল দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই পরিষেবা নিয়মিত না হলে বা ফের জলের অভাব দেখা দিলে আমরা রাজ্য সড়ক অবরোধের পথেই হাঁটব।