
কলকাতা: ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ঋতব্রতদের (Ritbrata Banerjee) ‘এক্সপায়ারি ডেট’ বেঁধে দিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০২৯ সালই ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের এক্সপায়ারি ডেট। তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। একইসঙ্গে, বিড়লা তারামণ্ডলের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে কল্যাণের (Kalyan Attacks Ritabrata) স্পষ্ট বার্তা, মমতা ছাড়া তৃণমূল হয় না। কর্মীরাই আগামী দিনে নেতা তৈরি করবে।
২১ জুলাইয়ের মঞ্চে বক্তৃতা রাখার সময় শুরুতেই কল্যাণ বলেন, “আজ কর্মীদের মধ্য়ে যে এত উন্মাদনা, বিগত ২১ জুলাইয়ে দেখা যায়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি এত ভালবাসা, এত টান— এটা শুধু পশ্চিমবঙ্গ কেন, ভারতবর্ষে কী হতে চলেছে, তার নিদর্শন রেখে যাচ্ছে।” সোমবার রাতে ঠিক কী হয়েছিল, সেই ঘটনাও তুলে ধরেন। সেই প্রসঙ্গে কয়েক বছর আগে সিপিএমের আমলে চম্পাইতলার মিটিংয়ের প্রসঙ্গ টেনে এনে স্মৃতিচারণ করেন। বলেন, ” গতকাল মমতাদি এখানে ছিলেন। সন্ধেবেলাতেও ছিলেন, রাত ১১টার সময়ও ছিলেন। দেখা গেল, মঞ্চ ভেঙে পড়ে রয়েছে। সেইসময় ফিরে গিয়েছি পুরনো দিনে। চম্পাইতলাতে মমতাদিকে মিটিং করতে দেয়নি সিপিএম। মঞ্চ ভেঙেছিল, থ্রেট দিয়েছিল। আজ আবার সেই কাজ করছে বিজেপি।”
২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে কল্যাণের আরও বড় বার্তা যে কর্মীরাই আগামীদিনে নেতা ঠিক করে দেবে। বলেন, “গত আড়াইমাসে বিজেপি, শুভেন্দুর টিআরপি কমে গিয়েছে। বিভিন্ন জেলায় ঘুরছি। সেই জেলার কর্মীরা জানাচ্ছেন, দাদা আমাদের এখানে নেতা নেই। আমি তাঁদের ফোনে বলি, নেতা আবার কী? কর্মীরাই তো সব।” ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে কল্যাণের দাবি, “আগামী দিনে দলের কর্মীরাই নেতা বেছে নেবেন। কর্মীরাই আগামীদিনে নেতা ঠিক করবে। সেই নেতাকেই তৃণমূল কংগ্রেস, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকৃতি দেবে।”
এরপরই ঋতব্রতদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্সপায়ারি ডেট বেঁধে দেন। সাংসদ বলেন, ” অনেকে নেই। যাঁরা বেইমান, গদ্দার, চলে গিয়েছে। কোনও অসুবিধা নেই। কর্মীদের প্রাণ মমতা। মমতা ছাড়া তৃণমূল হয় না। মমতা ছাড়া বিরোধী দলনেতা হয় না। মমতা ছাড়া বাংলার জনগণ হয় না। কিন্তু আপনাদের এমএল-এ দের এক্সপায়ারি ডেট ২০২৯।” এর কারণ ব্যাখ্যা করে কল্যাণ বলেন, “মোদী, শাহ এমপি কিনছেন। ওয়ান নেশন, ওয়ান ভোট বিল পাশ করলে ২০২৯-এ লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনও করতে হবে। তাই ডেট অফ এক্সপায়ারি ২০২৯।”