
বাঁকুড়া: দুর্নীতি রুখতে একেবারে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে পুলিশ। রোজই আসছে একের পর এক গ্রেফতারির খবর। গ্রেফতার ঝাঁকে ঝাঁকে তৃণমূল কাউন্সিলর থেকে প্রাক্তন বিধায়ক। ক’দিন আগেই শাড়ির স্তূপের ভিতর থেকে হাওড়ার এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এবার রাইপুরের সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মৃত্যুঞ্জয় মুর্মুর বাড়ির গুদাম থেকে উদ্ধার হল ত্রাণের বিপুল সংখ্যক ত্রিপল, শাড়ি, জামাকাপড় ও কম্বল। অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে এই সব ত্রাণ সামগ্রী না দিয়ে তা নিজের ঘরে জমা করে রেখেছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক।
এদিন তাঁর বাড়ির সামনে ব্যাপক বিক্ষোভও হয়। বাড়ি ঘেরাও করে রাখে এলাকার লোকজন। উত্তেজিত গ্রামবাসীরাই পুলিশে খবর দেন। পরে রাইপুর থানার পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা গ্রামে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ওই ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করে। তা নিয়েও চাপানউতোর চলছে।
২০২১ সালের আগে ৫ বছর বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু। সেই সময় থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। সেই অভিযোগের কারণেই ২০২৬ সালে তাঁকে আর প্রার্থী করেনি তৃণমূল। এদিকে রাজ্যে পালাবদলের পর ধীরে ধীরে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। বিধায়ক থাকাকালীন এলাকার দুর্গতদের জন্য পাঠানো সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ না করে মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু তা নিজের ঘরে মজুত করে ফেলেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় কোনও পরিবার সাধারণ একটি ত্রিপল বা কম্বলের জন্য বিধায়কের দ্বারস্থ হলেও বিধায়ক তা না দিয়ে ফিরিয়ে দিতেন বলেও অভিযোগ।
এদিন আশপাশের বেশ কিছু গ্রামের মানুষ জমায়েত করে রাইপুর থানার ইন্দ্রজোড় গ্রামে প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে হাজির হন। দীর্ঘসময় বাড়িটি ঘিরে রাখেন তাঁরা। পরে খবর পেয়ে রাইপুর থানার পুলিশ ও রাইপুরের ব্লক প্রশাসন প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালান। তখনই মজুত করে রাখা বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়। যদিও প্রাক্তন বিধায়কের সাফাই, নির্বাচনের ঠিক আগেই তিনি প্রশাসনের কাছ থেকে ত্রাণসামগ্রীগুলি পেয়েছিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই রাজ্যে নির্বাচন বিধি লাগু হয়ে যাওয়ায় সেগুলি বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।