Malda Ganga Erosion: ডুবে যাওয়ার আগে মসজিদে শেষ ‘দোয়া’, জলবন্দি থেকেই কি এবার হবে দুর্গাপুজো?

Malda Flood Situation: ঐতিহ্যবাহী এই জামে মসজিদ। বহু মানুষ এই মসজিদ দেখতেই গ্রামে আসে। সেই মসজিদের বড় একটা অংশই জলের মধ্যে হেলে পড়েছে। বাকি অংশ মাটি আঁকড়ে দাঁড়িয়ে থাকার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু গঙ্গার যে ভাঙন তাতে যেকোনও সময় তলিয়ে যাবে।

Malda Ganga Erosion: ডুবে যাওয়ার আগে মসজিদে শেষ দোয়া, জলবন্দি থেকেই কি এবার হবে দুর্গাপুজো?
ভাঙনের মুখে মালদহের মানিকচক।Image Credit source: TV9 বাংলা

| Edited By: ঈপ্সা চ্যাটার্জী

Sep 23, 2026 | 5:40 PM

মালদহ: কোথাও মসজিদ জলের নীচে তলিয়ে যাওয়ার আগে শেষ নামাজটা পড়ে গ্রাম ছেড়ে যাচ্ছে গ্রামবাসীরা। কোথাও জলবন্দি অবস্থার মধ্যেও মাটি আঁকড়ে, না খেয়ে দুর্গা পুজোর প্রস্তুতি শুরু করছে গ্রামবাসীরা। গোটা মানিকচক বিধানসভা এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ধ্বংসের ছবি, আর তার মধ্যেই বাঁচার তাগিদ। আশায় বুক বাঁধা।

মানিকচকের গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রামজুড়ে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দু’দিন ধরে ভাঙনের তীব্রতা ভীষণভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে কামলতিপুর গ্রামে ভাঙনের তীব্রতা খুব বেশী। তলিয়ে যাওয়ার মুখে কামলতিপুর জামে মসজিদ।

ঐতিহ্যবাহী এই জামে মসজিদ। বহু মানুষ এই মসজিদ দেখতেই গ্রামে আসে। সেই মসজিদের বড় একটা অংশই জলের মধ্যে হেলে পড়েছে। বাকি অংশ মাটি আঁকড়ে দাঁড়িয়ে থাকার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু গঙ্গার যে ভাঙন তাতে যেকোনও সময় তলিয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই তলিয়ে গিয়েছে জমি, বাগান, গাছপালা, মানুষের ঘরবাড়ি। আতঙ্কে পালাতে শুরু করেছেন গ্রামের মানুষজন। একের পর এক পরিবার শেষ সম্বলটুকু নিয়ে পালাচ্ছেন। এছাড়া কোনও উপায় নেই তাদের কাছে। মসজিদে শেষ “দোয়া’ এখন শুধু এই ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচার প্রার্থনা।

অন্যদিকে, মানিকচকেরই ভুতনি থানা এলাকায় উত্তর চণ্ডীপুর, দক্ষিণ চণ্ডীপুর এবং হিরানন্দপুর- এই তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় সব গ্রামই এখনও জলবন্দি। গঙ্গার জল এখন অনেকটাই কমেছে। তবুও ধ্বংসের ছবি সর্বত্র। বাড়ছে জলবাহিত রোগ। এই সব প্রতিকূলতার মধ্যেই লড়াই চলছে বাঁচার তাগিদে। আর এরমধ্যেই শুরু হয়েছে পুজোর উদ্যোগ।

হাতে কিছুই নেই। জানা নেই পুজোর জোগাড় কী করে হবে, প্রতিমাই বা কীভাবে এত তাড়াতাড়ি তৈরি হবে- জানা নেই কিছুই। তবুও খড় দিয়ে কাঠামো বানাতে শুরু করেছেন প্রতিমা শিল্পী গোবর্ধন মণ্ডল। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারও জলবন্দী ছিল এতদিন। তিনি বলেন, “সময় কম হলেও কিছু করার নেই। এই সময়ের মধ্যেই প্রতিমা বানাতে হবে”।

তবু সব কষ্ট উপেক্ষা করে, আশায় বুক বাঁধছে ভুতনির ডোমনটোলা সার্বজনীন, শঙ্করটোলা সার্বজনীন। দুর্গাপুজোর মধ্যে ভুতনিতে জল সম্পূর্ণ নেমে যাবে বলে আশা বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডলের। পুজো কমিটিগুলির পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। বলেন, “যতরকমের সহায়তা লাগে, সরকার করবে। আমি বিধায়ক হিসাবে পাশে আছি। আশা করি, দুর্গা পুজো আসতে আসতে মণ্ডপগুলির জল নেমে যাবে। জল থাকলেও এই পুজো আটকাবে না। কারণ ওরা মাচা করেও পুজো করেছে। সেই ইতিহাস আছে। “

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us