
মালদহ: কালিয়াচকের ঘটনা নিয়ে এবার বিস্ফোরক সুজাপুরের মিম প্রার্থী তথা মিমের মালদহ জেলা সভাপতি রেজাউল করিম। তাঁর দাবি, কালিয়াচকের গুন্ডামির ঘটনায় সাবিনা ইয়াসমিনই মাস্টারমাইন্ড। তাঁর কথায়, “নিজের ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থেই সাবিনা ইয়াসমিন চক্রান্ত করেছেন।” শাসকনেত্রীকে গ্রেফতার করার দাবিও তুললেন তিনি।
রেজাউল বলেন, “মাস্টারমাইন্ড কে, সেটা মালদহ কেন, গোটা বাংলার মানুষ জানেন। আমি যদি মুখে বলতে নাও চাই, মানুষ বুঝতে পারছে। যাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তিনি মাস্টারমাইন্ড নয়। সাবিনা ইয়াসমিন মাস্টারমাইন্ড। তাঁকেই গ্রেফতার করা উচিত। এটা একটা ষড়যন্ত্র, এটা মানুষ বুঝে গিয়েছে।”
উল্লেখযোগ্যভাবে মিম প্রার্থীর দাবির পক্ষেই কার্যত সওয়াল করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “সব ধাপ্পাবাজি। যে লোকটা ভিড় সামাচ্ছিল, CID দিয়ে তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে বাহাদুরি করা হল। আসল অপরাধীরা কোথায়? যিনি মানুষকে শান্ত করছিলেন, তাঁকে গ্রেফতার করা হল, মানুষ সবটা বুঝতে পারছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে মিম নেতাকে অধীরের সমর্থন এই প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ। এক্ষেত্রেও সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক তত্ত্বই খাড়া করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
যদিও এ সবে আমল দিতে নারাজ তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, “কে কী অভিযোগ করল, আমার দেখার দরকার নেই। আমি এটার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করি না। এটা জুডিশিয়াল ম্যাটার, আদালতে বিচারাধীন। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।”
প্রসঙ্গত, কালিয়াচক-২ ব্লকের মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়া নিয়ে চলা এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গত ১ এপ্রিল ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। আক্রান্ত হন বিচারকরা। মোথাবাড়িতে বিচারকদের পাইলট কারের ওপরেও হামলা চলে বলে অভিযোগ। সাতজন বিচার বিভাগীয় অফিসারকে ব্লক অফিসে প্রায় ৯ ঘণ্টা আটকে রাখে। জাতীয় সড়ক অবরোধ ও পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগও ওঠে। ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতে সওয়ালের মুখে পড়ে প্রশাসন ও কমিশন। সিবিআই কিংবা এনআইএ দিয়ে তদন্ত করানোর নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু তার আগেই CID মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। পুলিশ তাঁকে এই ঘটনার ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূলচক্রী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। গত শুক্রবার সকালে কলকাতা যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছালে সিআইডি ও শিলিগুড়ি পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে।