
মালদহ: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে এবার পাল্টা চ্যালেঞ্জ করছেন বাম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমাকে খুব হুমকি দিচ্ছেন, তারপর আমি এমন দেব, ঘাড় ধরে নামিয়ে দেব।” মালদহের একটি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হুমকি বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের। মালদহ শহরের রথবাড়ি এলাকায় রাস্তার ধারে প্রকাশ্য সভা ছিল বামেদের। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিকাশবাবু। সেখানে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের ওপর আক্রমণ করেন বিকাশ ভট্টাচার্য।
বিকাশবাবু বলেন, “আমার সঙ্গে খুব লড়াই চলছে এখন। মুখ্যমন্ত্রী খুব হুমকি দিচ্ছেন। আমি বলছি, হুমকি দাও, হুমকি দাও। ঠিক সময় মতো এমন ধাক্কা মারব, যে ঘাড় ভেঙে পড়বেন। আমি বলেছি হিন্দুত্ববাদী গুন্ডা। আসলে ওঁরা ভাবছেন ওঁরা গুন্ডা লালন পালন করছেন, কেউ বুঝতে পারছিলেন না। বিকাশবাবু বলে ফেললেন হিন্দুত্ববাদী গুন্ডা। তার সঙ্গে হিন্দু ধর্মের কী সম্পর্ক, কেউ জানেন না। বলার চেষ্টা করছেন, বামেরা হিন্দুবিরোধী।” তিনি আরও একবার মনে করিয়ে দেন, “বামেরা কোনও ধর্মের বিরোধী নয়, মৌলবাদের বিরোধী।”
বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “ঘাড় ভাঙাভাঙির কথা যদি হয়, তাহলে বিকাশবাবু ওনার পূর্বসুরীদের থেকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছেন। কমিউনিস্ট মানেই একটা ব্যাপার আছে। অসভ্যতা না করলে বোধহয় কমিউনিস্ট হওয়া যায় না। ”
তিনি বলেন, হিন্দুত্ব বাদী গুন্ডা বলেছেন বলেই তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আর এস এস এর বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে।
প্রসঙ্গত, এই গোটা বিষয়ের সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার ভোরে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলাকে ঘিরে। এক ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে কাচের শিশি ছোড়েন ও অশ্রাব্য গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ। সিসিটিভি-তেও ধরা পড়ে সেই ছবি। বিকাশবাবু নিজের সমাজমাধ্যমে গোটা বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দটি লিখেছিলেন। তা নিয়ে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন থেকে সরাসরি বিকাশবাবুকে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন যাতে তিনি এই পোস্টটি নিজে থেকেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেন। তা না হলে পদক্ষেপ করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।
আজ টিভি ৯ বাংলার সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, “মুখ্যমন্ত্রী আপনাকে পোস্ট সংশোধন করতে বলেছেন।” তখনই বিকাশের উত্তর, “মুখ্যমন্ত্রীকে এই অধিকার কে দিয়েছে আমি জানতে চাই? আগে মুখ্যমন্ত্রী অধিকারের পক্ষে যুক্তি হাজির করুন।” বিকাশবাবু নিজের পোস্ট সমাজমাধ্যম থেকে সরাননি। তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ পুলিশের। কসবা ও গড়ফা থানার পুলিশ বিকাশবাবুকে থানায় ডেকে পাঠায়।