
মালদহ: বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর থেকে তৃণমূলে ডামাডোল বেড়েই চলেছে। বিধায়কদের মধ্যে ভাঙন আগেই হয়েছে। তারপর লোকসভায় সাংসদরা দু’ভাগ হয়েছেন। এবার ভাঙতে চলেছে তৃণমূলের মালদহ জেলা পরিষদও। জেলায় জোট বাঁধছে ‘নব্য’ তৃণমূল। সরানো হতে পারে জেলা পরিষদের সভাধিপতিকে।
বিধানসভা নির্বাচনে মালদহের ১২টি আসনের মধ্যে ৬টি পেয়েছে তৃণমূল। আর ৬টি আসন পেয়েছে বিজেপি। এই জেলায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে টক্কর হলেও রাজ্যে ভরাডুবি হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের। ফলে ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে এই জেলাতে তৃণমূলের অন্দরে চাপানউতোর শুরু হয়। জেলা পরিষদেও তার ছাপ পড়ে।
মালদহ জেলা পরিষদে কার্যত আসা বন্ধ করে দিয়েছেন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। এখন রীতিমতো জেলা পরিষদের অফিস ফাঁকা। সভাধিপতি, সহ সভাধিপতি, কর্মাধ্যক্ষ বা জেলা পরিষদ সদস্যরা সকলেই হাওয়া। সরকারি কিছু কর্মচারী ছাড়া শূন্য মালদহ জেলা পরিষদ। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ঘরে ঘরে এখনও রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছবি।
রাজ্যে পালাবদলের পর এখন অভিযোগ উঠছে, আইপ্যাককে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েই সভাধিপতি হন লিপিকা বর্মণ ঘোষ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রতীক জৈনের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। পরে তাঁকে মালদহ বিধানসভাতেও তৃণমূল প্রার্থী করে। কিন্তু, বিজেপির গোপালচন্দ্র সাহার কাছে ৫০ হাজারের বেশি ভোটে হেরে যান। এবার নব্য তৃণমূল তাঁকে সরাতেই উদ্যোগী হয়েছে। জেলা পরিষদের তিন জন মহিলা তৃণমূল সদস্যের মধ্যে কোনও একজনকে সভাধিপতি করার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে নব্য তৃণমূল।
এদিকে সভাধিপতি কেন এখনও জেলা পরিষদে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি লাগিয়ে রেখেছেন, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। প্রশাসনিক ভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি যে থাকতে পারে না তা স্পষ্ট করেছেন মালদা জেলা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারিও। প্রশ্ন তুলেছেন সহ সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেনও।
কী বলছে বিজেপি?
এই নিয়ে কটাক্ষ করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির মালদহ জেলার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “লিপিকা বর্মণ ঘোষকে সরাতে উঠে পড়ে লেগেছে নব্য তৃণমূল। কিন্তু, যে তৃণমূলই বলুন না কেন, এদের একটাই উদ্দেশ্য দুর্নীতি। এদের সবটাই তোলাবাজ। তবে আমি এদের বলে দিতে চাই, মালদহে আগামিদিনে জেলা পরিষদ বিজেপির হবে।”