Malda: অ্যাপেনডিক্স অপারেশন হবে… স্বাস্থ্য সাথীরও ‘ক্লেইম’ করেছেন, আচমকাই নার্সিংহোমে ছুটে এলেন বড় আধিকারিকরা, OT থেকে তুলে আনলেন শিশুকে, তারপরই…

Malda: সেই অপারেশন কালিয়াচকের একটি নার্সিংহোমে করানো হবে বলেও পরিবারকে জানিয়ে দেয় অভিযুক্ত চিকিৎসক। সেখানে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে অপারেশন করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যায়।

Malda: অ্যাপেনডিক্স অপারেশন হবে... স্বাস্থ্য সাথীরও ক্লেইম করেছেন, আচমকাই নার্সিংহোমে ছুটে এলেন বড় আধিকারিকরা, OT থেকে তুলে আনলেন শিশুকে, তারপরই...
স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের টাকা হাতানোর চেষ্টা!Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Mar 09, 2025 | 4:36 PM

মালদহ: পরিকল্পনা ছিল স্বাস্থ্য সাথীর টাকা হাতানো। আর তাতে শিশুর জীবনই রাখা হল বাজি। মিথ্যা রিপোর্ট দেখিয়ে শিশুর অস্ত্রোপচার করিয়ে টাকা হাতানোর অভিযোগ নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। কিন্তু অস্ত্রোপচারের আগেই সেই নার্সিংহোমে হানা মালদহ জেলা প্রশাসনের। নার্সিংহোমের সঙ্গে এক চিকিৎসকের যোগসাজশেরও অভিযোগ উঠছে।

জানা যাচ্ছে, মালদহের ভূতনি এলাকার এক শিশু বেশ কিছু দিন ধরেই পেটে ব্যথা ছিল। বাড়ির লোক তাকে স্থানীয় হাতুড়ে এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরিবারের অভিযোগ, ওই চিকিৎসক নির্দিষ্ট করে একটি ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের কথা প্রেশক্রিপশনে উল্লেখ করে দেন। সেখান থেকে একটি টেস্ট করিয়ে আনার পরামর্শ দেন। যদিও পরিবারের লোক, সেখান থেকে টেস্ট না করিয়ে মালদহ শহরের তথাকথিত বড় নার্সিংহোম থেকে পরীক্ষা করান। রিপোর্ট দেখা যায়, সেই হাতুড় চিকিৎসক যা সন্দেহ করছিলেন, তা শিশুটির হয়নি। শিশুটি সুস্থই রয়েছে। এরপর সেই রিপোর্ট চিকিৎসককে দেখানোর পর তিনি সন্তুষ্ট হননি। এরপর তাঁর বলে দেওয়া ডায়াগনিস্টিক সেন্টার থেকেই পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। বাধ্য হয়ে সেখানে টেস্ট করান। পরিবারের দাবি,  রিপোর্টে যা রোগের কথা উল্লেখ করা হয়, সেটা আগে থেকেই নাকি চিকিৎসক বলে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ চিকিৎসকের কথায়, অ্যাপেনডিক্স অপারেশ করাতে হবে শিশুকে।

সেই অপারেশন কালিয়াচকের একটি নার্সিংহোমে করানো হবে বলেও পরিবারকে জানিয়ে দেয় অভিযুক্ত চিকিৎসক। সেখানে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে অপারেশন করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যায়। স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের টাকা পেতে নার্সিংহোমের তরফে আবেদন করা হয়, তখনই স্বাস্থ্য দফতরের কোনও একটি বিষয় নিয়ে সন্দেহ হয়।

এরপরই স্বাস্থ্য দফতর যোগাযোগ করে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের একটি টিম সেই নার্সিংহোমে পৌঁছয়। অপারেশন শুরু হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তেই শিশুকে উদ্ধার করে। নতুন করে সেই নার্সিংহোমেই স্বাস্থ্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা করানো হয়। নতুন পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা যায়, কোনও কিছুই হয়নি, সুস্থ স্বাভাবিক রয়েছে শিশুটি।

শিশুর মা জুলি মণ্ডল বলেন, “আমাকে তো ডাক্তার বললেন, তাড়াতাড়ি অপারেশন করাতে হবে, এর্মাজেন্সি। স্যররা এসে বলল, মিথ্যা কথা বলছে ওরা। কিছুই হয়নি। অপারেশন করে কিডনিও বার করে নিতে পারে।”

নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, “আমরা কোনও টাকা পয়সা নিইনি। আমাদের মনে হয়, কেউ আমাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে, যেহেতু আমাদের নার্সিংহোমে সুনাম রয়েছে।”

ঘটনাটি নিয়ে মালদহের অতিরিক্ত জেলাশাসক শেখ আনসার আহমেদ বলেন, “যে রেডিওলজিস্ট চেক আপ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা উচিত। সঙ্গে যে চিকিৎসক অ্যাপেনডিক্সের অপারেশন করতে যাচ্ছিলেন মিথ্যা ভাবে, সেই চিকিৎসক, নার্সিমহোমের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা ভাবছি। স্বাস্থ্য সাথী বা যে কোনও সরকারি প্রকল্পের টাকা নিতে অন্যায় কোনও পদক্ষেপ করা হলে, কঠোর সাজা হবে।”

Follow Us