
মালদহ: দুটি বস্তা ভর্তি গাদা গাদা আধার কার্ড, প্যান কার্ড সহ বিভিন্ন নথি এক ব্যক্তির বাড়ির সামনে পড়ে রয়েছে। দেখেই চক্ষু চড়কগাছ গ্রামবাসীদের। কিন্তু, কোথা থেকে এল এত আধার ও প্যান কার্ড? এসআইআর আবহে আধার ও প্যান কার্ড উদ্ধারকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ল মালদহের হবিবপুর ব্লকে। শেষে জানা যায়, এলাকার পোস্ট অফিসের এক অস্থায়ী প্রাক্তন কর্মী আধার, প্যান কার্ডগুলি বাড়ির সামনে রেখেছিলেন। কিন্তু, তাঁর বাড়িতে কেন এইসব নথি রয়েছে, সেই প্রশ্ন উঠছে।
হবিবপুর ব্লকের আকতৈল অঞ্চলের বিনোদপুর গ্রামের চিল্লাহার এলাকায় সোমবার সুশীল টুডু নামে এক ব্যক্তির বাড়ির সামনে দুটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। সেই বস্তা দুটি খুলতেই তার মধ্যে অসংখ্য আধার কার্ড, প্যান কার্ড-সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি পড়ে থাকতে দেখেন। যাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। যাঁর বাড়ির পাশে এই সমস্ত নথিপত্র পাওয়া যায়, সেই সুশীল টুডু বিনোদপুর পোস্ট অফিসে একসময় অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি স্বীকার করেন, ওই আধার কার্ড, প্যান কার্ড ভরা দুটি বস্তা তিনি রেখেছিলেন।
পোস্ট অফিসের প্রাক্তন অস্থায়ী কর্মীর কাছে এত আধার, প্যান কার্ড এত কোথা থেকে? সুশীল টুডু বলেন, বিনোদপুর পোস্ট অফিসে আগের যিনি পিওন ছিলেন, তিনি তাঁকে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন। মাসে ৫ হাজার টাকা দিতেন। সেই সূত্রে কিছু আধার কার্ড, প্যান কার্ড তাঁর কাছে রেখেছিলেন। ধীরে ধীরে তা বিলি করার কথা জানিয়ে ছিলেন। কিন্তু ওই পিওন আর না আসার কারণে সেই সমস্ত আধার কার্ড, প্যান কার্ড তিনি পোস্ট অফিসে জমা করার জন্য বাড়ির সামনে রেখেছিলেন। নিজের কাছে এত আধার কার্ড , প্যান কার্ড রাখা ঠিক হয়েছে কি না জানতে চাওয়ায় সুশীল টুডু বলেন, “রাখা উচিত নয়। কিন্তু, উনি রাখতে দিয়েছিলেন।”
সুশীল টুডুকে যিনি অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজে রেখেছিলেন, সেই পিওন হরেশচন্দ্র রায় বর্তমানে অন্য পোস্ট অফিসে বদলি হয়ে গিয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনোদপুর পোস্ট অফিসে পিওনের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি খড়িবাড়ি পোস্ট অফিসের পিওন। এদিন তাঁর কাছে ওই ২ বস্তা আধার কার্ড ও প্যান কার্ড সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে, হরেশচন্দ্র রায় বলেন, “আমি ওই গ্রাম চিনতাম না। আমাকে গ্রাম চিনিয়ে দেওয়ার জন্য ওকে রেখেছিলাম। মাসে ৫ হাজার টাকা দিতাম।” তারপরই তিনি বলেন, সুশীলকে কিছু আধার কার্ড, প্যান কার্ড বিলি করার জন্য দিয়েছিলেন। কিন্তু, অস্থায়ী ওই কর্মী যে সেসব বাড়িতে রেখে দিয়েছেন, তা তাঁর জানা ছিল না।
এদিকে এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হবিবপুরের বিজেপি বিধায়ক জুয়েল মুর্মু। তাঁর অভিযোগ, “সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ নথি পোস্ট অফিস থেকে বিলি করার কথা। কিন্তু তা না করে কারও বাড়িতে রেখে দেওয়া হয়েছে। যা কখনই করা উচিত নয়।”