
মুর্শিদাবাদ : পালাবদলের পর থেকেই শুরু হয়েছে অ্যাকশন। আইন-শৃঙ্খলায় জ়িরো টলারেন্সের কথা বলেছে বিজেপি সরকার (BJP Government)। তারপর থেকেই তৎপর প্রশাসন। এবার তিন বছর ধরে ঝুলে থাকা খুনের মামলায় কড়া পদক্ষেপ করল পুলিশ। যুবক খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল তৃণমূল নেতা মহম্মদ এনায়েতুল্লাকে (Mohammad Enatullah)। খুনের মামলা ছাড়াও অস্ত্র মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছে। গতকাল তাঁকে গ্রেফতার করেছে নবগ্রাম থানার পুলিশ।
নবগ্রাম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি এনায়েতুল্লাহ। নবগ্রামের পাঁচগ্রামের বাসিন্দা এনায়েত। দীর্ঘদিন ধরে নবগ্রাম ব্লক তৃণমূলের সভাপতি তিনি। ২০২৩ সালে মেহেবুব শেখ নামে এক যুবককে খুনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গতকাল রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে নবগ্রাম থানার পুলিশ। খুনের ঘটনার পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র মামলাতেও নাম জড়িয়ে তাঁর। কিন্তু, তাঁকে গ্রেফতার করে তিন বছর কেন লেগে গেল?
সূত্রের খবর, তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে তাঁকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। সবটাই নাকি উপরমহলের অর্ডার। এমনই অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু পালাবাদলের পর থেকেই সক্রিয় হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেফতার করা হচ্ছে দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের। এর আগেও ব্লক সভাপতির গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। এবারও আরও এক ব্লক সভাপতি পুলিশের জালে। পুলিশ সূত্রে খবর, এলাকায় সন্ত্রাস তৈরি করে রেখেছিল এনায়েত।
শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, রাজ্যজুড়ে পুরনো খুনের মামলায় একাধিক গ্রেফতারির ঘটনা ঘটছে। তৎপর রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এরই মধ্যে পুরনো খুনের মামলায় ইসলামপুর মহকুমা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন ৩৬ জন তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেস নেতাকর্মী। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে চোপড়ায় যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, তাতেই মৃত্যু হয় খইরুল ইসলামের। একাংশ মনে করছে, পুলিশের ধরপাকড় এড়াতেই পরিকল্পিতভাবে দলবদ্ধ হয়ে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন অভিযুক্তরা।