
নদিয়া: রবিবার সাতসকালে নৃশংস খুন। সাতসকালে স্ত্রীকে গলা কেটে দুই টুকরো করে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে! ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কৃষ্ণগঞ্জে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারাই অভিযুক্তকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পারিবারিক অশান্তির জেরেই স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ধারালো বটি দিয়ে গলা কেটে খুন করেন তিনি। জানা গিয়েছে, নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তারকনগর স্টেশন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সমীর মজুমদার। স্ত্রী সুমিত্রা মজুমদার। বিগত কিছু সময় ধরে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকছিলেন পারিবারিক অশান্তির কারণে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সকালে ছেলে বাবুসোনাকে দিয়ে স্ত্রীকে বাড়িতে ডেকে পাঠান অভিযুক্ত সমীর মজুমদার। এরপর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। ছেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায় সমীর মজুমদার স্টেশনের দিকে যাচ্ছেন। তার গতিবিধি দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। তাঁদের প্রশ্নের মুখে পড়ে একসময় সমীর নিজের স্ত্রীকে খুন করার কথা স্বীকার করে নেন।
এরপর প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে দেখেন যে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটির মেঝেতে সুমিত্রা মজুমদারের দেহ পড়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তকে আটক করে এবং কৃষ্ণগঞ্জ থানায় খবর দেয়। পুলিশ এলে তাদের হাতে অভিযুক্তকে তুলে দেওয়া হয়।
ছেলে বাবুসোনা মজুমদার বলেন, “বাবা ভালোভাবেই বলেছিল মাকে ডেকে আনতে। আমি কী করে জানব যে বাবা মাকে খুন করবে। ছোট ছোট ভাইবোন কী বলবে আমায়?”
দ্বিখণ্ডিত দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে এই খুন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্ত স্বামী সমীর মজুমদারকে গ্রেফতার করেছে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।