
নদিয়া: ২৪ ঘণ্টা পরই বিয়ে। হবু বরের সঙ্গে চুটিয়ে কেনাকাটা করেছেন। বাড়িতে বিয়ের প্রস্তুতিও সারা। কিন্তু, রবিবার সকালে তরুণীর রুমের দরজা খুলেই শিউরে উঠলেন বাড়ির লোকজন। ঘরের মধ্যে কনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল। ঘটনাটি নদিয়ার শান্তিপুর থানা এলাকার। মৃতের নাম শীলা বিশ্বাস। কেন তরুণী আত্মহত্যা করলেন, তা বুঝতে পারছেন না বাড়ির লোকজনও।
শান্তিপুর থানার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি শীলা বিশ্বাসের। বছর আঠারোর ওই তরুণী একাদশ শ্রেণিতে পড়তেন। তাঁর বাড়ির লোকজনের দাবি, শীলার নিজের ইচ্ছাতেই এলাকার এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়। সোমবার ছিল বিয়ের তারিখ। বিয়ের প্রস্তুতি সারা। প্যান্ডেল হয়ে গিয়েছে দুই বাড়িতেই। এমনকী শীলা তাঁর হবু বরকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ের কেনাকাটা এবং বাজার সম্পূর্ণ করেছেন।
বিয়ের আগের দিন মেয়ের আত্মহত্যার কারণ বুঝতে পারছেন না বাড়ির লোকজন। শীলার বাবা নিমাই বিশ্বাস বলেন, “আমার চার মেয়ে। শীলা মেজ মেয়ে। তার ইচ্ছাতেই এই বিয়ে ঠিক হয়। মেয়ে সন্ধেতে হবু বরের সঙ্গে কেনাকাটা করে এসেছে। রাতে আমাদের সঙ্গে খেয়েছে। কোনও কিছু বুঝতে পারিনি। মেয়ে ঠাকুমার সঙ্গে ঘুমোত। এদিন সকালে ওর ঠাকুমা উঠে আসার পর মেয়ে গলায় দড়ি দেয়।” বাড়িতে কিংবা হবু বরের সঙ্গে কোনও ঝামেলা হয়েছিল কি না জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, কোনও ঝামেলা হয়নি।
শান্তিপুর থানার পুলিশ গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে আসে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তারা। এটি নিছক আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে।