
নদিয়া: স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে একাধিক বিধিনিষেধ থাকলেও, সেই স্বাস্থ্যবিধিই কি কার্যত শিকেয় উঠেছে কল্যাণী শহরে? শহরের বিভিন্ন নার্সিংহোমে ব্যবহৃত বিপজ্জনক বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য প্রকাশ্যেই পড়ে রয়েছে রাস্তার ধারে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ, সেই সমস্ত ব্যবহৃত চিকিৎসা-সামগ্রী প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক নজরদারি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে।
কল্যাণী শিল্পাঞ্চল স্টেশনের পাশে এবং কল্যাণী কলেজ অফ মেডিসিন অ্যান্ড জেএনএম হাসপাতালের মর্গের ঠিক উল্টোদিকে দেখা যাচ্ছে এই উদ্বেগজনক ছবি। অভিযোগ, বিভিন্ন নার্সিংহোমে ব্যবহৃত ইঞ্জেকশন সিরিঞ্জ, রক্তমাখা গ্লাভস, ক্যাথিটারের সরঞ্জাম, স্যালাইনের পাইপ-সহ নানা ধরনের চিকিৎসা-বর্জ্য রাস্তার ধারে ফেলে রাখা হয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই সমস্ত ব্যবহৃত চিকিৎসা-সামগ্রী এক ব্যক্তি প্রকাশ্যেই বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ।
নিয়ম অনুযায়ী, হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সংগ্রহ করে বৈজ্ঞানিকভাবে নিষ্পত্তি করার কথা। কিন্তু সেই নিয়মকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে এই সমস্ত বিপজ্জনক বর্জ্য হাসপাতাল বা নার্সিংহোমের বাইরে এসে পৌঁছচ্ছে, তা নিয়েই উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
অভিযোগ, এক শ্রেণির দালালের মাধ্যমে এই ব্যবহৃত চিকিৎসা-সামগ্রী বাইরে আনা হচ্ছে এবং প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে এই সামগ্রী অন্যত্র নিয়ে গিয়ে পুনরায় বিক্রি বা ব্যবহারের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এবং এর পিছনে কারা জড়িত, তা তদন্তসাপেক্ষ।
চিকিৎসকদের মতে, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, রক্তমাখা গ্লাভস এবং অন্যান্য চিকিৎসা-সামগ্রী যথাযথভাবে নিষ্পত্তি না করা হলে তা থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ, পথচলতি মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এই ধরনের বর্জ্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কোন হাসপাতাল বা নার্সিংহোম থেকে এই বর্জ্য বাইরে আসছে? কারা এই বিপজ্জনক সামগ্রী সংগ্রহ করে বিক্রি করছে? প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় দিনের পর দিন এই কারবার চলতে পারে?
বিষয়টি সামনে আসার পর প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু আশ্বাস নয়, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রকাশ্যে চিকিৎসা-বর্জ্য ফেলা ও বিক্রি বন্ধ করার দাবি উঠছে। শহরবাসীর একটাই প্রশ্ন—মানুষের জীবন রক্ষার জন্য যে চিকিৎসা-ব্যবস্থা, সেই চিকিৎসা ব্যবস্থার বর্জ্যই যদি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে নাগরিকদের সুরক্ষার দায়িত্ব নেবে কে? কল্যাণীর এসডিও নীলাঞ্জন তরফদার বলেন, “বিষয়টা নজরে এসেছে। আমি যথাযথ পদক্ষেপ করছি।”