Tehatta News: নিজে হাতে দুর্গা বানিয়ে পুজো করছেন ক্লাস ইলেভেনের রূপম

ছোট থেকে লক্ষ্মী, কালী, সরস্বতী কার্তিক সমস্ত পূজা করলেও চার বছর থেকে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে নিজে পুরোহিত হয়ে পূজা করছে। ওর প্রতিভা দেখে পাড়া-প্রতিবেশীও কিছু কিছু দিয়ে সহযোগিতা করেছে। এমনকি একজন প্রতিমা দেখে দেড় হাজার টাকা তাকে পুরস্কার করেছে এবার। দর্শনার্থী অনেকেই যে যা পারছে হাতে হাতে দিয়ে যাচ্ছে। ও কারোর কাছে কিন্তু চাঁদার জন্য যায়নি। এ কর্মকাণ্ডে আকৃষ্ট হয়ে সবাই সহযোগিতা করছে।

Tehatta News: নিজে হাতে দুর্গা বানিয়ে পুজো করছেন ক্লাস ইলেভেনের রূপম
নদিয়া পুজো Image Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: অবন্তিকা প্রামাণিক

Oct 17, 2026 | 4:19 PM

তেহট্ট: নিজে হাতে দুর্গা (Durga Puja) প্রতিমা গড়ার পাশাপাশি পুরোহিতের ভূমিকায় তেহট্টের বেতাই বেলেচুয়াপাড়ার একাদশ শ্রেণির ছাত্র রূপম অধিকারী। ছোটবেলার শখ ও টিভি দেখে শেখা প্রতিমা তৈরির শিল্প আজ তাক লাগিয়ে দিয়েছে গোটা এলাকাকে। একাদশ শ্রেণির ছাত্রের নিজ হাতে গড়া প্রতিমাতেই তেহট্টে সীমান্তবর্তী এলাকায় চলছে দুর্গোৎসব।

কীভাবে আগ্রহ জাগল?

স্থানীয় সূত্রে খবর, ছোট বয়সে টেলিভিশনে দেব-দেবীর রূপ দেখে মনে জেগেছিল কৌতূহল। আর সেই কৌতূহল থেকেই প্রতিমা তৈরিতে হাতেখড়ি রূপমের। বয়স বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে সেই শখই আজ রূপ নিয়েছে নিখাদ শিল্প সত্ত্বায়। একাদশ শ্রেণির ছাত্র রূপম অধিকারী নিজের হাতে দুর্গা প্রতিমা তো বটেই, সরস্বতী, লক্ষ্মী ও কালীর মতো বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

শুধু প্রতিমা তৈরিই নয়, সমস্ত আচার-আচরণ মেনে নিজ বাড়ির উঠোনে নিজেই পুরোহিতের ভূমিকায় এ বছরের দুর্গোৎসব সম্পন্ন করছে সে। তেহট্ট থানার বেতাই বেলেচুয়াপাড়ার এই কিশোরের শিল্পকর্ম এলাকায় ইতিমধ্যেই বেশ সাড়া ফেলেছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, রূপমের শৈশব থেকেই দেব-দেবীর ছবির প্রতি এক অদ্ভুত টান ছিল। ছোটবেলায় কান্নার সময়ও যদি তাকে দেব-দেবীর ছবি বা মূর্তি দেখানো হত। তবে সে শান্ত হয়ে যেত। স্কুলের পাঠ্যবইয়ের পাতা থেকে শুরু করে নানা জায়গায় দেব-দেবীর ছবি দেখা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ভাবনাকেই সে বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করে।

​রূপমের বাবা দুলাল অধিকারী ও ঠাকুরমা অর্চনা অধিকারী জানান, ছোট বয়স থেকেই সে নিজের কল্পনায় ও হাতে বিভিন্ন প্রতিমা তৈরি করে আসছে। পড়াশোনার ফাঁকেই সে এই শিল্পচর্চা চালিয়ে যায়।

গত চার বছর ধরে সে নিজ বাড়িতেই দুর্গোৎসবের আয়োজন করে আসছে এবং নিজেই সমস্ত পূজার্চনা পরিচালনা করে। পড়াশোনা আর প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি পূজার সমস্ত পুরোহিত ও ব্রাহ্মণের কাজও সে একা হাতেই সামলায়। কিশোর শিল্পীর এই প্রতিভার কথা ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। তার নিখুঁত শিল্পকলা ও ভক্তি দেখে এলাকার পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ ঠাকুর দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন।

শুধু তাই নয়, খুদে শিল্পীর এই সাধনা দেখে দর্শনার্থীরাও সাধ্যমতো অর্থ সাহায্য করে তার পাশে দাঁড়াচ্ছেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও এই প্রতিভাবান ছাত্রকে পড়াশোনার পাশাপাশি তার শিল্পচর্চায় সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

পরেশ অধিকারী খুব খুশি। ওর মা-বাবা প্রথম দিকে অসন্তুষ্ট ছিল। খুব ছোট বয়সে বাড়ি আনাচে-কানাচে বসে বিভিন্ন প্রতিমা তৈরি করত। ওর বাবা-মা বকাবকি করলেও থামতো না, অনেক বকাঝকার পর ওর বাবা-মা দেখল ও ফিরছেই না। অবশেষে একদিন ছেলের হাতের তৈরি প্রতিমা দেখে খুব খুশি হলো। এরপর থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিমা তৈরিতে আর বাধা দিতেন না।

ছোট থেকে লক্ষ্মী, কালী, সরস্বতী কার্তিক সমস্ত পূজা করলেও চার বছর থেকে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে নিজে পুরোহিত হয়ে পূজা করছে। ওর প্রতিভা দেখে পাড়া-প্রতিবেশীও কিছু কিছু দিয়ে সহযোগিতা করেছে। এমনকি একজন প্রতিমা দেখে দেড় হাজার টাকা তাকে পুরস্কার করেছে এবার। দর্শনার্থী অনেকেই যে যা পারছে হাতে হাতে দিয়ে যাচ্ছে। ও কারোর কাছে কিন্তু চাঁদার জন্য যায়নি। এ কর্মকাণ্ডে আকৃষ্ট হয়ে সবাই সহযোগিতা করছে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us