
নদিয়া: ভোটের কড়া নিরাপত্তার মাঝেই নদিয়ার চাপড়া থানার চাপড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা। বাৎসরিক অনুষ্ঠানের সুযোগে সাধুবেশে কয়েকজন বাড়িতে ঢুকে যায়। তারপর ভেষজ ওষুধ খাওয়ানোর নামে পরিবারের পাঁচ সদস্যকে অচৈতন্য করে সোনাদানা ও নগদ অর্থ লুট করে পালায়। বর্তমানে অসুস্থরা শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধুবুলিয়া থানার একটি গ্ৰামের বাসিন্দা শম্পা প্রামাণিকের মায়ের বাৎসরিক অনুষ্ঠান চলছিল। ডোম পুকুরে একটি সাধুসঙ্ঘের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্থান থেকে একাধিক সাধু-সন্ন্যাসীর আগমন ঘটে। অভিযোগ, শম্পা প্রামাণিকের এক আত্মীয় করিমপুর থেকে ‘কৃষ্ণ বাগ’ নামে এক সাধুকে নিয়ে আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী এবং নৈহাটি থেকে আসা এক মহিলা। যিনি নিজেকে ওই সাধুর ধর্মকন্যা বলে পরিচয় দেন।
অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর অভিযুক্ত ওই সাধু শম্পার পিসির বাড়ি চাড়াতলা এলাকায় যান। সেখানে শরীরের ব্যথা সারানোর নাম করে তিনি নিজেই রান্না করেন এবং পরিবারের সদস্যদের ভেষজ ওষুধ খাওয়ান। ওষুধ খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির পাঁচজন সদস্য অচৈতন্য হয়ে পড়েন এবং কারও সঙ্গে যোগাযোগের অবস্থায় ছিলেন না।
অসুস্থদের নাম, বিজয় প্রামাণিক, কার্তিক প্রামাণিক (৬৫), বুদ্ধদেব প্রামাণিক (৩৫), সুপর্ণা প্রামাণিক (৩৬) এবং অঞ্জলি প্রামাণিক (৫৫)। বর্তমানে তারা শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবারের দাবি, ওই অবস্থার সুযোগ নিয়ে নৈহাটি থেকে আসা মহিলা ঘরে থাকা সমস্ত সোনাদানা—গলার হার, কানের দুল, চুড়ি সহ মূল্যবান সামগ্রী—লুট করে পালিয়ে যায়। বাড়ির একটি শোকেসে রাখা সমস্ত গয়না উধাও হয়ে যায়।
ঘটনার কথা প্রথম জানতে পারেন পরিবারের এক আত্মীয় রাম প্রামাণিক। সকালে কাজে যাওয়ার আগে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে তিনি ঘরে ঢুকে দেখেন সবাই অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। কারও মুখ দিয়ে ফেনা বেরোচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পরে জল ছিটিয়ে তাদের জ্ঞান ফেরানো হলেও তারা ঘটনার বিষয়ে কিছুই স্পষ্ট করে বলতে পারেননি।
শম্পা বলেন, “করিমপুর থেকে আসা ওই সাধু পুরো বিষয়টি জানেন। তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা উচিত। স্থানীয়দের মতে, নানা ধরনের প্রলোভন—স্বাস্থ্য ভালো করা, আয় বৃদ্ধি ইত্যাদির কথা বলে ওই ভেষজ ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল।” ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।