
বীরভূম: হাইকোর্টের নির্দেশেও মিলল না সুরক্ষা। নানুরে পুলিশি পাহারায় ভিটেয় ফিরতে গিয়ে ফের হামলার মুখে ঘরছাড়া। কলকাতা হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ এবং সঙ্গে বিশাল বাহিনী থাকা সত্ত্বেও নিজের ভিটেয় ফেরা হল না বীরভূমের নানুর ব্লকের পাপুরি গ্রামের ১৮ থেকে ২০টি পরিবারের। ২০০৬ সালের রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ঘরছাড়া এই পরিবারগুলি। সোমবার পুলিশি নিরাপত্তায় গ্রামে ঢোকার মুখে তাদের ওপর রড, বাঁশ ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলার মারাত্মক অভিযোগ উঠল স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এটি জেলা পরিষদ মেন্টর তথা তৃণমূল নেতা কাজল শেখের নিজ গ্রাম। হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে এদিন বিশাল পুলিশি কনভয় নিয়ে আক্রান্ত পরিবারগুলিকে গ্রামে পৌঁছাতে যায় প্রশাসন। কিন্তু পাপুরি গ্রামের মুখে পৌঁছাতেই সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা তাদের পথ আটকায়। অভিযোগ, পুলিশি বলয়ের মধ্যেই তাদের লক্ষ্য করে রড ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়, যার ফলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিশাল পুলিশ বাহিনী তৎক্ষণাৎ তৎপর হয়ে হামলাকারীদের হাত থেকে ঘরছাড়া পরিবারগুলিকে উদ্ধার করে এবং কোনওক্রমে নানুর থানায় নিয়ে আসে। ফলে আইনি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত নিজের বাড়ি ফেরা আর সম্ভব হয়নি ওই পরিবারগুলির। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কাজল শেখ বলেন, “যাঁরা গ্রামে ঢোকার চেষ্টা করছেন, তাঁরা সাধারণ গ্রামবাসী নন, এরা মূলত সিপিএম আমলের ‘হার্মাদ বাহিনী’ এবং অতীতে বহু রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।”
ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাপুরি গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় বাড়তি পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ২০০৯ সালে সিপিএম ও তৃণমূলের সংঘর্ষের পরে পাপুড়ি গ্রামের প্রায় ৪০টি পরিবার ঘরছাড়া হয়। ওই পরিবারগুলির অভিযোগ, এর আগে একাধিক বার পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় তাঁরা গ্রামে ফেরেন। কিন্তু তার পরেও বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ। ১৭ বছর পর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশের পরে আবার পাপুড়ি গ্রামে প্রবেশের সুযোগ পান তাঁরা।