
বাদুড়িয়া: এক বছরে একই জায়গায় ঝরল নয় নয়টি প্রাণ। বারবার আবেদন সত্ত্বেও মেলেনি কোনও স্পিড ব্রেকার। এই ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি দিল শুক্রবারের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। শনিবার মৃত ব্যক্তির দেহ গ্রামে ফিরতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বাদুড়িয়া থানার মসলন্দপুর-বসিরহাট রোডের হুগলি টালিকারখানা মোড় এলাকা। রাস্তা অবরোধের পাশাপাশি পুলিশ ও পঞ্চায়েত প্রধানকে ঘিরে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলল বিক্ষোভ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার বাদুড়িয়ার নারকেলবেড়িয়ার বাসিন্দা আলতাব মণ্ডল (৪৮) বাজারে যাওয়ার সময় টালিকারখানার মোড়ে একটি দ্রুতগামী ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারান। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। শনিবার ময়নাতদন্তের পর আলতাব মন্ডলের নিথর দেহ গ্রামে পৌঁছাতেই তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয় এলাকায়।
শনিবার সকালে মৃতদেহ নিয়ে হুগলি টালিকারখানার মোড়ে পথ অবরোধ শুরু করেন কয়েক’শ গ্রামবাসী। তাঁদের অভিযোগ, এই এলাকা কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত এক বছরের মধ্যে এই একই জায়গায় ৯ জন পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন। প্রত্যেকবারই এলাকায় বাম্পারের পাশাপাশি সিসিটিভি বসানোর দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, প্রতিবারই শুধু মিলেছে ফাঁকা আশ্বাস। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কোনও পদক্ষেপই করা হয়নি প্রশাসনের তরফে।
অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান রামচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। চলে আসে বাদুড়িয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু তাঁদের দেখামাত্রই যেন ক্ষোভের আগুন ঘি পড়ে। পুলিশ ও পঞ্চায়েত প্রধানকে ঘিরে ধরে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা। দীর্ঘক্ষণ অবরোধের জেরে মসলন্দপুর-বসিরহাট রোডে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। পরে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের হস্তক্ষেপে ওঠে অবরোধ। যদিও গ্রামবাসীদের দাবি, এবার দ্রুত কাজ না হলে তাঁরা আরও বড়সড় আন্দোলনে নামবেন।