
বসিরহাট: নৃশংস। এক আত্মীয়র সঙ্গে মেলায় গিয়েছিলেন মহিলা। তারই জেরে তাঁকে বটি দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। মৃতের নাম সুখজান খাতুন (৩০)। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের স্বামী শফিকুল মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের মাটিয়া থানা এলাকায়।
মাটিয়া থানার উত্তর দেবীপুর গ্রামে বাড়ি শফিকুলের। সুখজান ও শফিকুলের দুই সন্তান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে, সোমবার সুখজান খাতুন নিজেরই এক আত্মীয়র সঙ্গে মেলায় গিয়েছিলেন। ঘটনাটি জানতে পারার পরই স্ত্রীর সঙ্গে ঝামেলা বাধে শফিকুলের। মঙ্গলবার দুপুরে সেই বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর ঝামেলা চরম আকার ধারণ করে। আর সেই ঝগড়ার সময় শফিকুল মণ্ডল বটি নিয়ে এসে স্ত্রীকে কোপ মারেন।
যন্ত্রণায় ছটপট করতে করতে চিৎকার শুরু করেন সুখজান। বাড়িতেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। তাঁর চিৎকার শুনে বাড়ির অন্যান্য সদস্য এবং প্রতিবেশীরা দৌড়ে আসেন। রক্তাক্ত অবস্থায় সুখজানকে বাড়িতে পড়ে থাকতে দেখেন। তড়িঘড়ি তাঁকে বসিরহাট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা সুখজানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে মাটিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শফিকুল মণ্ডলকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় থানায়।
তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এই খুনের ঘটনায় হতবাক শফিকুলের পরিবার ও প্রতিবেশীরা। শফিকুলের কাকা নাফিদুল মণ্ডল বলেন, “স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। শফিকুল ও সুখজানের ছোট দুটো বাচ্চা রয়েছে। কিন্তু, ওই মেলায় যাওয়া নিয়ে ঝামেলা বাধে। ঝামেলার সময় বটি দিয়ে স্ত্রীকে আঘাত করে শফিকুল। যে কারণেই ঘটনা ঘটে থাকুক, আমরা চাই দোষী উপযুক্ত শাস্তি পাক।”