
হাবড়া: ঠিক যেন সিনেমার দৃশ্য। হাবড়া স্টেশন সংলগ্ন ও যশোর রোডের মোড়ে ঘটে গেল টানটান উত্তেজনার অ্যাকশন মুহূর্ত। ডাকাতির উদ্দেশ্যে আসা এক দুষ্কৃতীকে নিজের সাহসিকতায় পাকড়াও করলেন এক সেনা জওয়ান। শনিবার সন্ধেয় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সন্ধেয় হাবড়া স্টেশন ও যশোর রোডের সংযোগস্থলে একটি অটোতে বাড়ি ফেরার পথে অপেক্ষা করছিলেন এক যুবক। হঠাৎই তিনি অটো থেকে নেমে দৌড়ে গিয়ে এক যুবককে পিছন থেকে জাপটে ধরে মাটিতে শুইয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। অপর যুবকের হাতে তখন একটি বন্দুক। ব্যস্ত সময়ে এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আশপাশের মানুষজন ও দোকানদাররা। চিৎকার-চেঁচামেচিতে মুহূর্তেই ভিড় জমে যায় ঘটনাস্থলে।
পরে জানা যায়, ধাওয়া করা যুবক সেনা জওয়ান সুমিত ঘোষ। তিনি হাবড়ার হাটথুবা এলাকার বাসিন্দা। বাড়ি ফেরার পথে অটোতে বসেই তিনি দেখতে পান এক যুবক একটি খ্যাতনামা গয়নার দোকানে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঢোকার চেষ্টা করছেন। তাঁর হাতে বন্দুক ও ছুরি ছিল। সময় ব্যয় না করে তাই দ্রুত অটো থেকে নেমে ছুটে যান ওই সেনা জওয়ান। কেউ ভয়ে এগিয়ে যাচ্ছে না দেখেই দুষ্কৃতীকে পাকড়াও করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। ওই দোকানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীর সঙ্গে রীতিমতো তখন বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছিলেন ওই দুষ্কৃতী। সেনা জওয়ানের সাহসিকতায় শেষ পর্যন্ত ওই দুষ্কৃতীকে কাবু করা সম্ভব হয়। পরে স্থানীয় মানুষজনও এগিয়ে এসে তাঁকে ধরে ফেলেন। মারধরও করা হয় ওই দুষ্কৃতীকে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হাবড়া থানার পুলিশ। পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। কেন, কী উদ্দেশ্যে ওই যুবক এসেছিলেন, সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হাবড়ার প্রাণকেন্দ্রে এমন ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়ালেও সেনা জওয়ান সুমিত ঘোষের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকের মতে, সেনা জওয়ানের তৎপরতায় এদিন যেন বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হল। আর জওয়ান সুমিত বলেন, অটো থেকে তিনি দুষ্কৃতীকে দেখতে পেয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ওই সোনার দোকানের নিরাপত্তারক্ষীরা বলছিলেন, আটক যুবক মাস্ক দিয়ে মুখ ঢেকে দোকানে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। আটকাতেই হামলার চেষ্টা করেন।